মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
পরিকল্পিত সংঘাতে জামায়াত জোট
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৪ এএম আপডেট: ৩০.০১.২০২৬ ৪:২২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ ই-পেপার

ছবি : খোলা কাগজ ই-পেপার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে চলছে প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। সে হিসেবে নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১২ দিন। কিন্তু এর মধ্যেও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বিশেষ করে জামায়াতের ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১১-দলীয় এ জোট পরিকল্পিতভাবে সংঘাতে জড়াচ্ছে। 

সর্বশেষ শেরপুরে বিএনপির ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মাওলানা রেজাউল করিম নামের এক জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনে ১১-দলীয় জোটভুক্ত এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত-এনসিপি ধারাবাহিকভাবে সংঘাতের উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। তারা চাচ্ছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে এতে প্রতিক্রিয়া দেখান। এরপর তারা ভিক্টিম কার্ড খেলে মানুষের সহানভূতি আদায়ের রাজনীতি করবেন। শেরপুরের সংঘাত তাদের সেই পরিকল্পনারই অংশ। এ ছাড়া নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপও সেই গভীর ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। 

জামায়াত-এনসিপি জোটের এই সংঘাতের পরিকল্পনাকে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন অনেকে। একই অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল ভেতরে-ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তারা চলে গেছে, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে, ভেতরে-ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে—কীভাবে নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, বাধাগ্রস্ত করা যায়।’ আগামী নির্বাচন যেন কেউ বানচাল করতে না পারে, সে জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

কী ঘটেছিল শেরপুরে: গত বুধবার দুপুরে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে আসার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েকশ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন। এতে তাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল) তার ফেসবুক পেজে দাবি করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এ হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে হামলায় গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে এ সংঘাতের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেছে বিএনপি। তারা এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল? সেই দলের লোকজন কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করল? সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে সেই দলের প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন, এসব বিষয় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’ 

মাহদী আমিন বলেন, ‘শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে, সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রতিটি দলের বসার জন্য আসন নির্ধারিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সব আসন, তথা চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না। প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাত আমরা দেখেছি, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ 

শেরপুরে ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি, যেখানে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের যিনি প্রার্থী রয়েছেন, তাকে বারবার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তারপরও তিনি কেন সেই দিক দিয়েই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? তাকে বারবার বলতে শোনা যাচ্ছিল, ‘জান যায় যাক।’

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি : শেরপুরে সংঘটিত সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকার বলেছে, সহিংসতায় প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত দুঃখজনক। শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে। এমন অবস্থায় সরকার বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  জামায়াত জোট   পরিকল্পিত সংঘাত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close