কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার কাঠালিয়া নদীতে বালুবাহী নৌযান থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি চলার অভিযোগের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একজন পেশাদার চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ছিনিয়ে নেওয়া নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের আগেই চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কাঠালিয়া নদীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে লক্ষণখোলা গ্রামের আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে নাজির উদ্দিনকে (৩২) আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ৬ জন নামীয় আসামি ও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পাড়ারবন্ধ গ্রামের ইংরাজ মিয়ার ছেলে আরিফ (৩২), শহিদ মিয়ার ছেলে ইমরান (৩১) ও তিতাস থানার সরস্বতী গ্রামের মোস্তাক মিয়ার ছেলে মামুন (৪৫), শাহীন বোবার ছেলে সজল (৩৫) এবং উপজেলার মুগারচর গ্রামের মৃত. বজলুর রহমানের ছেলে মজিবুর রহমান মজিদ (৩৫) ও রফিকুল ইসলামের ছেলে রিফাত (২৬)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক নাজির উদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, রাধানগর ইউনিয়নের মজিবুর রহমান মজিদ ও মামুনের নেতৃত্বে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাঠালিয়া নদীতে চলাচলকারী বালুবাহী বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। অভিযানকালে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা, দুটি রামদা এবং ছিনিয়ে নেওয়া ৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ তালিকা মূলে এসব আলামত জব্দ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘এমবি জাহানারা’ নামের একটি বাল্কহেডে করে সিলেট থেকে দাউদকান্দির দিকে যাওয়ার সময় দুটি ট্রলারে করে একদল সন্ত্রাসী বাল্কহেডটি আটক করে। তারা দেশিয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে চাঁদা দাবি করে। এসময় নাজির উদ্দিন লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বাল্কহেডের কর্মরত ব্যক্তি মো. আল আমিনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে হাত তুললে আঘাতটি তার ডান হাতে লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন।
এছাড়াও আসামিরা ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আল আমিনের পকেট থেকে জোরপূর্বক ৪ হাজার ১০০ টাকা নিয়ে নেয় এবং অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার হুমকি দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আল আমিন কৌশলে মেঘনা সেনা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ওয়ারেন্ট অফিসার মো. নুর ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। সেনা কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি আসামিদের সঙ্গে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা ট্রলারযোগে পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে নাজির উদ্দিনকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, ‘অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিরা পালিয়ে গেলেও তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আটক নাজির উদ্দিনকে শুক্রবার সকাল ১১টায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
কেকে/বি