দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধাচারণের অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ১৭ জন এবং আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ৫ জন নেতাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে এর আগে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের ৮ জন নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাতক্ষীরা-৩ আসনে ধানের শীষ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ কাজী আলাউদ্দীনের সুপারিশে এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশের সিদ্ধান্তক্রমে এ বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আজিজুর রহমান পার, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রতনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শিহাবউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলু, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কিসমাতুল বারী, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলী খান, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল আজিজ গাইন, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সরকার, মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল কবীর, মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আঙ্গুর, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন, তারালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোনাজাত সানা, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. সফিরউদ্দীন সবুজ, কোষাধ্যক্ষ নুর ইসলাম মিলন, কুশুলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এস এম হাফিজুর রহমান বাবু এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য শেখ রবিউল ইসলাম।
এছাড়া আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খায়রুল আহসান, সাবেক সদস্য জুলফিকার আলী জুলি, সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলমকেও প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের ৮ নেতাকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতারা হলেন—কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু ফরহাদ সাদ্দাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বাপ্পী হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য অলিউর রহমান এবং সদস্যসচিব শেখ পারভেজ ইসলাম। এছাড়া আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. ইয়াসির আরাফাত পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজ হোসেন ও সদস্যসচিব মো. সবুজ হোসেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আবু জাহিদ ডাবলু জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে তাদের ছাত্রদলের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
প্রসঙ্গত, বহিষ্কৃত এসব নেতা-কর্মী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের ‘ফুটবল’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন বলে জানান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু।
কেকে/এলএ