লালমনিরহাট-২ আসন (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রার্থীরা উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও জনসভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ভোটাররা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য হাট-বাজার ও চায়ের আড্ডায় আলোচনা করছেন। এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এবার জাতীয় পার্টির যোগ্য প্রার্থী না থাকায় এবং আওয়ামী লীগের ভোটও এ আসনে সরাসরি নেই, বিএনপির জন্য জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এই আসন জিতেছে। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি প্রয়াত মজিবুর রহমান ৩৫ বছর ধরে টানা সাতবার এমপি ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও অন্যান্য দল নির্বাচন বর্জন করায় এই আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যায়। ২০১৮ সালে নুরুজ্জামান আহমেদ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে আবারও তিনি নির্বাচিত হন।
বর্তমানে বিএনপি, জামায়াত ও জনতা পার্টি এই আসনে ত্রি-মুখী লড়াই করছেন। বিশেষ করে বিএনপি প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল (ধানের শীষ) দুই উপজেলায় ব্যাপক পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে যুক্ত এবং জনসমর্থন অর্জন করেছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত থাকায় তাদের ভোটের একটি অংশ বিএনপির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু (দাড়িপাল্লা) নির্বাচনী এলাকায় শক্তিশালী সংগঠন ও দৃঢ় ভোটব্যাংক নিয়ে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
জনতা পার্টির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামীম কামাল (কলম) নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি ও বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
মোট এই আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন: রোকন উদ্দিন বাবুল (ধানের শীষ) – বিএনপি, অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু (দাড়িপাল্লা) – জামায়াত, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামীম কামাল (কলম) – জনতা পার্টি, মো. মাহফুজুর রহমান (হাতপাখা) – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন (লাঙ্গল) – জাতীয় পার্টি, নিমাই চন্দ্র রায় (কাস্তে) – কমিউনিস্ট পার্টি, মমতাজ আলী শান্ত (মোটরসাইকেল) – স্বতন্ত্র।
দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৩২,৯৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১৭,২০০ জন এবং মহিলা ভোটার ২,১৫,৭৬০ জন।
ভোটাররা আশা করছেন এবারের নির্বাচনে এমন প্রার্থী জিতুক যিনি জনগনের কথা শোনবেন এবং প্রকৃত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন।
সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, ধানের শীষ, দাড়িপাল্লা ও কলম মার্কার প্রতিদ্বন্দ্বী এখন সমান শক্তিশালী। শেষ পর্যন্ত আদিতমারী ও কালিগঞ্জের সংখ্যালঘু ও আওয়ামী সমর্থিত ভোটারদের সিদ্ধান্তই ফল নির্ধারণ করবে।
কেকে/এলএ