কক্সবাজার জেলায় অটোগ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রতিদিন শত শত যানবাহনকে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
কয়েকদিন আগে বাসা থেকে বের হলাম। বাড়ির ১শত মিটারের মধ্যে রয়েছে একশটি গ্যাস পাম্প। মেইন রোড়ে এসে দেখা গেলো কয়েক কিলোমিটার ধরে লাইনে আছে সিএনজিগুলো। দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যা দেখা যাচ্ছে তা কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকট চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রভাব কক্সবাজার জেলাও পড়েছে।
প্রতিদিনের মতো শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৪টা থেকেই উখিয়ার কোর্টবাজার, মরিচ্চা, কুতুপালং, কাস্টম ও পালংখালীসহ উখিয়ার প্রধান সড়ক সংলগ্ন অটোগ্যাস পাম্পগুলোতে সিএনজি অটোরিকশা, নোহা, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় তাদের পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলায় গ্যাস সংকট হওয়ার কারণে এই চিত্র জেলার ৯ উপজেলায় দেখা যাচ্ছে।
একজন সিএনজি চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। আয় বন্ধ হয়ে গেলে সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে যায়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অটোগ্যাস সংকটের কারণে উখিয়ায় গণপরিবহন ব্যবস্থায়ও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষজনকে দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদিন সিএনজি, মাইক্রোবাস ও নোহা গাড়ির ওপর নির্ভর করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে অনেক গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না তারা। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে, যা মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সীমিত পরিমাণ গ্যাস দিয়ে সব যানবাহনকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত অটোগ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উখিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর পরিবহন ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়তে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত এই সংকট নিরসনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেকে/বি