বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যারা ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব মানেনা—২০২৬ সালে তাদের কিসের নির্বাচন? জুলাই না হলে তো ফ্যাসিবাদের অধীনে নির্বাচন হতো ২০২৯ সালে। জুলাই মানবো না আর ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে—এটা হতে পারে না।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কেরানীগঞ্জের সরকারি শাক্তা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর বলেন, “একটি দল জুলাই সংস্কার ও গণভোটের বিরোধিতা করলেও এখন জনগণের চাপে বাধ্য হয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে।”
তিনি একে ‘ঠেলার নাম বাবাজি’ উল্লেখ করে বলেন, “এ জাতি যারে ধাক্কা দেয় তাদের ছেড়ে দেয় না।”
যারা ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ কায়েম করে ব্যাংক ডাকাতি ও শেয়ার বাজার লুট করেছে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের বিপ্লবীদের রক্তকে সম্মান করলে মানুষের জমি দখল বা মা-বোনের ওপর হাত তোলা যেত না।”
তিনি অঙ্গীকার করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ন্যায়ের জয় হবে এবং দেশ চাদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে।
সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, “এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নয় বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ কি আবারও কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির অধীনে থাকবে, নাকি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সীমান্তে ফেলানীর মতো আর কোনো লাশ কিংবা আবরারের মতো মেধাবীদের আর শহীদ হতে দেখতে চাই না।”
আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো নির্বাচন ঘিরে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি ৫ আগস্টের মতো ১২ ফেব্রুয়ারিও সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।
জাগপা প্রধান রাশেদ প্রধান বলেন, “৫ আগস্টের পর আরেকটি দল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের স্থান দখল করেছে।”
বিএনপির ‘হ্যাঁ’ ভোটের অবস্থানকে লোক দেখানো উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাদের মুখ বলে ‘হ্যাঁ’ কিন্তু অন্তর বলে ‘না’।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মশিউর আলম বলেন, “বিএনপি আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করলেও আমরা জবাব দিচ্ছি না কারণ তারা ‘সি টিমের খেলোয়াড়’। আওয়ামী লীগের মতো তারাও সময়ের ব্যবধানে ভারত বা লন্ডনে চলে যাবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ঘোষণা দেন, ঢাকা জেলায় কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না।
ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নব্য ফ্যাসিস্টরা মা-বোনদের ওপর হামলা করলে সেই হাত ভেঙে দেওয়া হবে।”
কর্ণেল আব্দুল হক বলেন, “স্বৈরাচারদের এই দেশের মানুষ বিদায় করেছে, আরেকটি দল যাচ্ছে দেশে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী, জুলুম, দূর্নীতি চালু হোক, ব্যাংক ডাকাতি হোক,তারা দেশের শান্তি চায় না।”
সভা শেষে আমীর ঢাকা জেলার ৫টি আসনে জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীরা হলেন— ঢাকা-১ এর ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ এর কর্নেল হক, ঢাকা-৩ এর অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম, ঢাকা-১৯ এর দিলশানা পারুল এবং ঢাকা-২০ এর ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ।
এদিকে প্রথম তিনজন দাঁড়িপাল্লা এবং বাকি দুইজন শাপলাকলি নিয়ে ১১ দলের পক্ষে লড়ছেন।
কেকে/ আরআই