মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সমঝোতার আসনে নাটক জামায়াতের
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩০ এএম আপডেট: ০১.০২.২০২৬ ১০:১৮ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। পুরোদমে প্রচারণায় ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। তবে এখনো সংকট কাটেনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায়। যা নিয়ে জোটের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে চাপা অসন্তোষ। শরিকদের অভিযোগ— সমঝোতার আড়ালে তাদের সঙ্গে এক ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করেছে জামায়াত। 

তাদের ভাষ্য— সমঝোতায় জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি দলকে ছেড়ে দেওয়া একাধিক আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি জামায়াত। এমনকি মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নাটক তৈরি করেছে দলটির কর্মী-সমর্থকরা। 

দঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা যেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারে; সেজন্য সমর্থকরা কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা সৃষ্টি করে। আবার অনেক আসনে শরিক দলের প্রার্থীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ এবং মিথ্যা প্রচারণাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এদিকে শরিকদের চাপে শেষ পর্যন্ত দেশের সাতটি আসনে ব্যালট পেপার থেকে তাদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে জামায়াতে ইসলামী। 

তবে সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় ইসি থেকে জানানো হয়Ñ এ মুহূর্তে নির্বাচনি প্রতীক প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। এর আগে জামায়াতে ইসলামী সাতটি আসনে প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন করে। আসনগুলো হলো— চট্টগ্রাম-৮, নরসিংদী-২, ভোলা-২, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-১ ও চট্টগ্রাম-১২।

সূত্রমতে, সমঝোতার হিসেবে ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী পাবে ২১৫টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন। 
তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী ২১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা থাকলেও তাদের প্রার্থী রয়েছে ২২৪টি আসনে। এনসিপিকে ২৯টি আসন এককভাবে ও একটি আসন উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হলেও দলটির প্রার্থী রয়েছে ৩২টি আসনে। এর মধ্যে ১৩টি আসনে এনসিপির পাশাপাশি শরিক দলগুলোর প্রার্থীও রয়েছেন।

এ বিষয়ে এনসিপির একজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জোটের শীর্ষ পর্যায়েই সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে তৃণমূল পর্যায়ে তা আরও বেশি স্পষ্ট হয়। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কার্যকর সমন্বয় না থাকায় জামায়াতসহ কয়েকটি দল অনেক আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টি আসন ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে দুটি আসনে জামায়াত নিজেদের প্রার্থী দেয়নি। তবে বাকি দুই আসনে ইতোমধ্যে জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। অর্থাৎ শরিক দলের প্রতীকের পাশাপাশি ব্যালটে থাকবে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনগুলো শরিক দলকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), চট্টগ্রাম-৫ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দেওয়া হয়েছে।

চারটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম-১৪ এ এলডিপির ওমর ফারুক প্রচারণায় ব্যস্ত। তবে দ্বিধা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী মাঠে প্রচারণায় থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের শুরুতে জামায়াতের প্রার্থী সরে গেলেও গতকাল শুক্রবার থেকে প্রচারণায় নেমেছেন তিনি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলে আইনিভাবে নির্বাচন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ এ দুই আসনে এনসিপি ও এলডিপির প্রতীকের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লাও থাকবে। এনসিপির প্রতীক শাপলা ও এলডিপির প্রতীক ছাতা। 

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসন দুটির বিষয়ে আমাদের বক্তব্য একই। আসনগুলোতে আমরা ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। সেখানে তারা প্রচারণা করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা করব বলে জানিয়েছি।’
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি ওয়ার্ড ও বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যসমর্থিত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ। মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এ আসনের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছেরের পোস্টার-বিলবোর্ড দেখা গেছে।

প্রশ্ন উঠেছে চট্টগ্রাম নগরের এ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর আসলে কে, তা নিয়ে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে জোটের পক্ষে যে ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার কথা, সেটি পাচ্ছি না।’

কেকে/এমএফ



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close