ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের নির্বাচনি সমীকরণে এবার নির্ণায়ক ভূমিকা রাখছে অন্য জেলা থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ভোটাররা। নোয়াখালী, ভোলা ও কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ভোটারের সমর্থন যে প্রার্থী বেশি আদায় করতে পারবেন, তিনিই এই আসনে এগিয়ে থাকবেন- এমনটাই বলছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
এই আসনে মোট ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, বিএনপির ধানের শীষের ববি হাজ্জাজ, খেলাফত মজলিসের রিকশা মার্কার মো. মামুনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার মিজানুর রহমান, বাসদের মই মার্কার খালেকুজ্জামান, মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) রকেট মার্কার মো. শাহাবুদ্দিন, মুসলিম লীগের হারিকেন মার্কার শাহারিয়ার ইফতেখার, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘুড়ি মার্কার শেখ মো. রবিউল ইসলাম ও কলস মার্কার সোহেল রানা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, ঢাকা-১৩ আসনের গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক মূলত তিন ভাগে বিভক্ত— নোয়াখালী, ভোলা ও কিশোরগঞ্জ–ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভোটাররা। এরা সবাই বিভিন্ন সময়ে ঢাকা এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন এবং বর্তমানে এই আসনের ভোটার।
মোহাম্মদপুরের ৪ রাস্তার মোড়, চাঁদ উদ্যান হাউজিং ও বসিলা এলাকার বিভিন্ন হাউজিংয়ে ভোলাবাসীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
স্থানীয়দের মতে, এসব এলাকায় বসবাসরত ভোলার প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ মানুষই ঢাকা-১৩ আসনের ভোটার। ২০১৫ সালের উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভোলার ভোটের সমর্থনেই তারেকুজ্জামান রাজীব কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। এতে মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি শক্তিশালী ‘ভোলার ভোটব্যাংক’ গড়ে ওঠে।
অন্যদিকে, টাউন হল এলাকায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ী ও ভোটারদের আধিক্য রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নোয়াখালীর ভোটারদের সমর্থনেই অতীতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এদিকে, রায়েরবাজার এলাকায় কিশোরগঞ্জের ইতনা ও আড়াইল্লা গ্রামের পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজার হাজার ভোটারের বসবাস। এখানে ‘আড়াইলা বাজার’ নামে একটি বড় বাজার রয়েছে, যা ওই জনগোষ্ঠীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২০-৩০ বছরে এসব অঞ্চল থেকে এসে বসবাসকারীরাই এখন এখানকার স্থায়ী ভোটার। সব মিলিয়ে স্থানীয়দের ধারণা, নোয়াখালী, ভোলা ও কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভোটব্যাংক যে প্রার্থী বেশি দখলে নিতে পারবেন, তিনিই ঢাকা-১৩ আসনের এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।
মাঠ জরিপে আরও দেখা গেছে, এসব এলাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ভোটারের সংখ্যা বেশি—যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন বিএনপির ববি হাজ্জাজ ও খেলাফত মজলিসের নেতা মামুনুল হক। এর পাশাপাশি বসে নেই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। সোহেল রানা ও শেখ রবিউল ইসলাম চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক গণসংযোগ। সবাই চেষ্টা চালাচ্ছে- কে কত ভোটারের মন জয় করতে পারে।
শ্যামলী রিং রোড হক সাহেবের মোড়সহ ১৩ আসনের দক্ষিণ-পশ্চিম এরিয়ায় এগিয়ে রয়েছেন সোহেল রানার। এছাড়াও বেশ কয়েকটি এলাকায় সোহেলের জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার অনুসারীরা।
তারা জানান, ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ভোটারদের মন জয় করার জন্য।
এদিকে, শেখ রবিউল, তার জনপ্রিয়াত রয়েছে ঢাকা-১৩ আসনের দক্ষিণ পূর্ব এলাকা- যেমন ধানমন্ডির একাংশ রয়েছে এই আসনে। শংকর, মধু বাজার, রায়ের বাজার আড়াইলা, বাজার শেরেবাংলা রোড ছাতা মসজিদ এলাকায় রয়েছে ১৩ আসনের ভোটব্যাংক এই এলাকটিতে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ রবিউল।
এখন পর্যন্ত ঢাকা ১৩-আসনে ববি হাজ্জাজ, মামুনুল হক, শেখ রবিউল ইসলাম , সোহেল রানা বেশি আলোচনায় রয়েছেন। ঢাকা- ১৩ আসনে কে হবে আগামীর সাংসদ- এ নিয়ে চলছে আলোচনা।
কেকে/এমএ