নীলফামারীতে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে ভোটারদের সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে সদর আসনের ছয় প্রার্থী উন্নয়নের পাশাপাশি নীলফামারীকে একটি নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
সুজন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাজেস দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন নীলফামারী জেলা কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন।
ছয় মিনিটের বক্তব্যে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন জানান, নীলফামারীকে রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং দেশের একমাত্র নিরক্ষরমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।
তিনি আরও জানান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেকার সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেজা ও বেপজার সম্প্রসারণ, হাইটেক পার্ক, বিসিক স্থাপন, সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ এবং বাইপাস ও জেলা সদরে ওভারব্রিজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ নীলফামারীকে শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, নীলফামারীকে একটি উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা। জেলা হিসেবে নীলফামারী এখনও পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে অর্থনীতির চাকা সচল করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের মাধ্যমে জেলাটিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।
অন্যান্যের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাছিবুল ইসলাম, দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সারোয়ারুল আলম, টেলিভিশন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম এবং ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন সুজন নীলফামারীর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আলম প্রধান। অনুষ্ঠানে ভোটারদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভোটার ও প্রার্থীরা অঙ্গীকার ও শপথ গ্রহণ করেন। শেষে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীরা একে অপরের প্রতি হাত উঁচিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
কেকে/এলএ