আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ‘পোস্টারবিহীন’ প্রচারণার নিয়ম। এর ফলে সিরাজগঞ্জ -৩ আসন (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনে চিরচেনা নির্বাচনি জৌলুস ও উৎসবমুখর পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে গত ২২ জানুয়ারি। তবে প্রচারসামগ্রীর স্বল্পতায় অনেক সাধারণ ভোটার এখনো প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক চিনে উঠতে পারেননি। তবে ছোট লিফলেট নিয়ে প্রচারনায় মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসন। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪লাখ ৪৪ হাজার ৪২৭জন। তারমধ্য রয়েছেন পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭শত ৩৭জন, নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার ৬শত ৮৩জন ও তৃতীয় লীঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭জন।
এ আসনটিতে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ভিপি আইনুল হক, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ'র ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুর রউফ (রিকশা প্রতিক) স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস রেজা রবিন (ঘোড়া প্রতিক) ও জাতীয় পার্টি জাপা মো. ফজলুল হক (লাঙ্গল প্রতীক)।
এদিকে, নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, এবার কাগজের পোস্টারের পরিবর্তে সীমিত আকারে পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা।
এ ছাড়া একটি সংসদীয় এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি নির্দিষ্ট মাপের (১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থ) বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও এর দৃশ্যমান ব্যবহার তেমন দেখা যায়নি।
তবে ছোট ছোট লিফলেট নিয়ে ভোটার মাঝে ভোট প্রার্থনায় ছুটেছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী আইনুল হক ও দলীয় নেতা-কর্মীরা। বসে নেই ১১দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুর রউফ ও জোটের নেতৃত্ববৃন্দরা। তবে মাঠে দেখা নেই জাতীয় পার্টি (জাপা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া) প্রতিকের লোকজনদের।
এই আসনটির সাধারণ ভোটারদের মাঝে ধানের শীষ প্রতীক ও জামায়াত জোট সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া কারো প্রতিক বা কোন প্রার্থী সম্পর্কে অজানা।
তাই বিএনপি দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আইনুল হক ও ১১ দলের জোটের মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রিকশা প্রতিকের মুফতী আব্দুর রউফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দীতা মুলত হবে।
এদিকে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনি আমেজ উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ছে প্রার্থী সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে।
অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রার্থীর পক্ষেই ব্যানার বা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। তবে বড় দুই দলের প্রার্থী—বিএনপির আইনুল হক (ধানের শীষ) এবং ১১ দলের (রিকসা)—এর পক্ষে ভোট চেয়ে কিছু ব্যানার দেখা গেছে।
এই দুই দলের কয়েকটি নির্বাচনি ক্যাম্প দেখা গেলেও অন্য ২ প্রার্থীর কোনো ক্যাম্পের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করার সুযোগ থাকলেও বিএনপি, ১১ দলের জোটের প্রার্থী ছাড়া অন্য কারও প্রচারণার মাইক এলাকাবাসী শোনেনি।
পোস্টারবিহীন এই নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
তাড়াশ পৌর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আগে নির্বাচনের সময় চারদিকে পোস্টার ঝুলে থাকত, আলাদা একটা আনন্দ ছিল। এবার পোস্টার না থাকায় নির্বাচন হচ্ছে—এটাই মনে হয় না। প্রার্থী চেনা তো দূরের কথা, ভোট যে খুব কাছে, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে ভিন্ন মত দিয়েছেন চাকরিজীবী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘পোস্টার না থাকায় শুরুতে প্রার্থী চিনতে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে পরিবেশ রক্ষা ও নির্বাচনের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর জন্য এটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই পরিবর্তনকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ভিপি আইনুল হক নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। এছাড়া ১১ দলের জোট সমর্থিত রিকশা প্রতিকের প্রার্থী তেমন পরিচিত না হলেও জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের নেতাকর্মীরা প্রচারনা চালাচ্ছেন এবং ভোটারদের মাঝে ভোট প্রার্থনা করছেন।
এদিকে ভোটারদের অভিমত, পরিবেশবান্ধব ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনের এই নতুন সংস্কৃতি ভোটারদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতটা সাড়া ফেলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তাড়াশ পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খন্দকার আব্দুল বারিক বলেন, সিরাজগঞ্জ -৩ আসনের ভোটার মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের ভিপি আইনুল হক গনজোয়ার উঠেছে। এ আসনটিতে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী করে দেশ নায়ক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিবো। আর ধানের শীষকে বিজয়ী করার লক্ষে আমরা দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটার দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ভিপি আইনুল হককে সংসদে পাঠাবো ইনশাআল্লাহ ।
তাড়াশ পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক তপন কুমার গোস্বামী জানান, আমাদের ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে দিনরাত ভোটার কাছে ছুটে চলছি। আমরা ধানের শীষকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবো বলে আশা ব্যক্ত করেন।
কেকে/এমএফ