মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ১১ দলীয় জোটে বিভক্তি প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ ১১ দিনের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ ভোটের মাঠে তৎপর হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী নির্বাচনি আসনের বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় অংশ নেন আব্দুল মান্নান। এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিশাল শোডাউনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার নামেন।
এ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হলেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের মাওলানা আহমদ বিলাল। এ জোটের প্রধান শরিক দল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে গত ২০ জানুয়ারি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। ফলে, আইনি জটিলতায় জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা বহাল থেকে যায়।
এদিকে, গত ২১ জানুয়ারি আব্দুল মান্নানকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলেও গত ১১ দিন তাকে নির্বাচনি মাঠে দেখা যায়নি। দীর্ঘ এই সময় পর হঠাৎ ৩১ জানুয়ারি বড় ধরনের শোডাউনের মাধ্যমে তার সরব উপস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এতে ১১ দলীয় জোটে বিভক্তি এবং চরম অসন্তুষ দেখা দিয়েছে। জোটের দুই প্রার্থীর ভোট ভাগাভাগিতে নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পাল্লা ভারী হয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা।
তবে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থী আহমদ বিলাল পুরোদমে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। মাঠে ময়দানে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
আহমদ বিলাল বলেন, ‘আমাকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার মনোনয়নে জোটের শরীক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কামালী ভাই তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আমার সাথে গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। আমি আশাবাদী, যেভাবে গণজোয়ার সৃৃষ্টি হয়েছে আমরা বিজয় আমাদের নিশ্চিত।’
‘জোটের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে জামায়াত নেতার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করা এবং জনসংযোগ করায় তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃত।’
তিনি আরও বলেন,
‘শুরুতে জামায়াতের প্রার্থী প্রচার করেন নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। আর এখন তিনি জোটের নির্দেশ অমান্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে শোডাউন করেছেন। এটা কীসের আলামত বহন করে?’
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইয়ামীর আলী বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে জামায়াত প্রার্থীর প্রতীক সরানোর আবেদন করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন প্রতীক না সরানোর ফলে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন। আর অন্য প্রশ্নের জবাব ১২ ফেব্রুয়ারির পর দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ফয়সালা মতে আমি বৈধ প্রার্থী। তাই গণসংযোগ ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে শোডাউন করছি, নির্বাচনি প্রচারণা করছি।’
তিনি জানান, মৌলভীবাজার-৩ আসনটি ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের জন্য প্রকাশ্যে উন্মুক্ত না হলেও অনেকটা উন্মুক্তের মতো।
অপরদিকে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মৌলভীবাজার শহরের স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজা-৩ আসনের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা আহমদ বিলাল ১৫ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় ১১ দলীয় জোটেরর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে আহমদ বিলাল বলেন, ‘মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর জনপদকে একটি পরিকল্পিত, উন্নত ও পরিবেশবান্ধব নিরাপদ এলাকা আর শহরকে যানজটমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন এবং ডিজিটাল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
কেকে/এমএ