চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা না থাকলেও তার কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হলো। সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হলেও আইনি জটিলতার কারণে সহসাই বিজয়ী হিসেবে গেজেটভুক্ত হতে পারছেন না তিনি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার চূড়ান্ত আপিল শুনানির জন্য আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, সরোয়ার আলমগীর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে তিনি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবুও তার ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট আপিল মামলা (সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-৪৪০/২০২৬) চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। অর্থাৎ, জিতলেও তাকে এমপি হিসেবে শপথ নিতে অন্তত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেছিলেন রায় পুরোপুরি পক্ষে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্টের বন্যা বয়ে যায়। এমনকি আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি ও জামায়াতের নবীন আইনজীবীদের মধ্যে মিষ্টিমুখ ও কোলাকুলির ঘটনাও ঘটে।
তবে জামায়াতের আইনজীবীরা আদেশের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার পর চিত্র পাল্টে যায়। আনন্দের বদলে নেমে আসে হতাশা ও বিভ্রান্তি। শুরু হয় অনলাইনজুড়ে কাদা ছোড়াছুড়ি। কেউ জামায়াতকে ‘মামলাবাজ’ আখ্যা দিচ্ছেন, আবার কেউ ঋণখেলাপি হয়ে নির্বাচনে আসায় বিএনপি প্রার্থীর সমালোচনা করছেন।
এর আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার লিজিংয়ের একটি ঋণের জেরে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করেন। কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে যান ওই আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, যমুনা ব্যাংকের একটি ঋণসংক্রান্ত বিষয়ও অমীমাংসিত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতাতেই আপিল বিভাগ মঙ্গলবার এই স্থগিতাদেশ দিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর আইনজীবী ও নির্বাচনী চিফ এজেন্ট মো. ইসমাইল গণি বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আমাদের আপিল গ্রহণ করে আদালত নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত করেছেন।
সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, ব্যারিস্টার আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মামুন মাহবুব হোসেন।
ফুল বেঞ্চের এই আদেশের ফলে ফটিকছড়ি আসনে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও জনপ্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করছে এ আসনের ভবিষ্যৎ।
কেকে/এমএফ