বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা ১১ দলীয় জোট যে বাংলাদেশ গড়ে তুলবো সেই বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। নবীনগরের মাটিতে কোন সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের স্থান হবে না। আপনারা আমার পক্ষে প্রতিদিন অন্তত দশটি করে ভোট চাইবেন। আগামী ১২ তারিখ উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে যাবেন। দুটি ভোট দেবেন একটি রিকশা প্রতীকে, আরেকটি ‘হ্যাঁ’ ভোট। আগামীর বাংলাদেশ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে।’
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর সরকারি হাইস্কুল মাঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফির নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
জনসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দায়বদ্ধতা সাধারণ জনগণের কাছে। আমরা কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ বা মাদকসম্রাটের কাছ থেকে টাকা খাইনি। তাই তাদের কাছে আমরা দায়বদ্ধ নই। কিছু করলে আমাদের জনগণের আদালতে দাঁড়াতে হবে। গত তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। মরা মানুষ এসে ভোট দিয়েছে। এর ফলাফল ৫ আগস্ট জনগণ দিয়েছে। ৫০০-১০০০ টাকার বিনিময়ে ১ দিন ভালো থাকবেন নাকি ৫ বছর দেশের মালিক হবেন সে সিদ্ধান্ত আপনাদের।’
প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা যদি বাংলাদেশ জনগণের বিরুদ্ধে যান তবে আবার ৫ আগস্ট আবার নেমে আসবে। ভোট চোরদের হাতে যদি দেশ তুলে দেন তাহলে তারা আপনার সন্তানকে গুলি করে হত্যার কথা বলবে।’
হাসনাত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নির্লজ্জ মিডিয়া। কিছু কিছু মিডিয়া আছে যারা একটি দলের পক্ষে কাজ করছে। গত ১৭ বছর একটি দলের বন্দনা, প্রশংসা দিয়ে গেছে। আর তারেক জিয়াকে ব্যর্থ হিসাব স্বীকৃতি দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে। তারা এখন খবরের মাঝে মাঝে বিএনপির প্রচারণা চালায়। আপনারা যদি নিরপেক্ষ না হোন তবে জনগণ আপনাদেরকে লাল কার্ড দেখাবে।’
জনসভায় নবীনগর উপজেলা জামায়েতে ইসলামের আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়েতের ইসলামীর সুপ্রিম কোর্ট শাখার নির্বাহী সদস্য আবদুল বাতেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা জামায়েতের আমির মো. মোবারক হোসাইন আকন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সভাপতি মাইনুল ইসলাম খন্দকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের সংগঠক আবদুল্লা আল মাহমুদ, এনসিপি নেতা কবির মাসুদ, মাওলানা মতিউর রহমান গৌরনগরি, মুফতি মনিরুজ্জামান, ইসলামী ছাত্রশিবিরে সাবেক সভাপতি আমির হোসেন প্রমুখ।
কেকে/এসএএস