নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রতারণা মামলার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক মফিজুর রহমান বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামী করা হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক রোডে পিবিআই পুলিশের কাছ থেকে মব সৃষ্টি করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। মহসিন আল মামুন ওরফে মন্টু নামের ওই আসামীর বাড়ি সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়ায় এবং খালেদ মার্কেটে তাঁর গার্মেন্টস কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাদা পোশাকে একদল পুলিশ মহসিন আল মামুনকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে পিবিআই পরিচয়ে আটক করে। এ সময় ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর সহযোগীরা ভুয়া ডিবি পুলিশ বলে মব সৃষ্টি করলে জনতা তাকে উদ্ধার করতে ছুটে আসে। তখন পিবিআই পুলিশ সদস্যরা গণপিটুনির শিকার হোন। তরা হলেন নারায়নগঞ্জ পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক মফিজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও রোকনুজ্জামান। এছাড়াও হামলার শিকার হন কনস্টেবল সত্যেন্দ্রনাথ ও মাইক্রোবাস চালক মো. হাসান মিয়া। ঘটনার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে বহনকারী মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করে। আর এ সুযোগে আটক ব্যবসায়ী মহসিন আলী পালিয়ে যান।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের একটি টিম নিয়মিত মামলার আসামি ধরতে গিয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মবের শিকার হয়। পরে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তারা রক্ষা পায়। আসামি ধরার সময় এ ঘটনা ঘটিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় উক্ত থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তিন জন এসআই ফতুল্লা থানার একটি প্রতারণার মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সৈয়দপুরে আসেন। সাদা পোশাকে ওই আসামিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এলাকা থেকে আটক করেন তারা। এ সময় ভুয়া পুলিশ বলে আসামি মব সৃষ্টি করলে পুলিশ সদস্যরা গণপিটুনির শিকার হোন। খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা-পুলিশের একটি দল তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
কেকে/এসএএস