বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চুয়ান্ন বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে বার বার সুযোগ পেয়ে নিজেরাই ক্ষমতাবান ও বিত্তবান হয়েছে। জনগণকে ক্ষমতায়িত করেনি। তারা শুধু কোটি কেটি টাকা লুট করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় নওগাঁ এটিম মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতঃপূর্বে যারা ক্ষমতায় ছিলো, জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যাদের তাড়িয়েছেন, তারা আটাশ লক্ষ কেটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে কোন দুর্নীতি হতে দেব না। আমরা দুর্নীতি করি না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না। আমরা ব্যাংক লুট করি না লুটকারীদের প্রশ্রয় দিব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বা কোন গোষ্ঠী অথবা কোন বিশেষ শ্রেণীর মানুষের বিজয় চাই না। আমরা আঠারো কোটি মানুষের বিজয় চাই। আর আঠারো কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে হলে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিন।’
নওগাঁ জেলা আমির খ ম আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী নেতা এএসএম শাহরিয়ার কবির, জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী অঞ্চল প্রধান ও বগুড়া-আসনের প্রার্থী শাহাব উদ্দিন, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী মাস্টার খবিরুল ইসলাম, শরীক দল এবি পার্টি নেতা কাজী আতিকুর রহমান, ফিরোজ হোসেন এবং চব্বিশের শহীদ শারমিনের মা।
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক নওগাঁ এটিম মাঠে সমবেত হোন। জনসভা শুরুর নির্দিষ্ট সময় বেলা ১১টার মধ্যে এটিম মাঠ এবং সংলগ্ন এলাকাসমূহ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমেছিল ও রক্ত দিয়েছিল তাদের সে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। তাদের সে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে প্রকৃত গণতন্ত্র ও মানুষের মুক্তি আসবে না।’
ফেসবুকে নারীদের নিয়ে ভাইরাল বিষয় নিয়ে তিনি অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে আমার উপর মিসাইল মারা হচ্ছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করে যারা ফায়দা হাসিল করতে চায়, তারা দেশকে গোলাম বানাতে চায়। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। পরিবারতন্ত্র বজায় রাখতে চায়। অথচ আমরা একসাথে তাদের সাথে লড়াই করেছি। তারাই আমাকে মিসাইল মেরেছে। আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।’
তিনি আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করলে নওগাঁয় চার লেন সড়ক নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকার করেন।
এছাড়াও তিনি নওগাঁকে কৃষি প্রধান পুরো উত্তরাঞ্চলে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘নওগাঁ এবং চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা আম ও লিচু উৎপাদনের জন্য প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার দাবি রাখে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সে দাবী পূরণ করবে।’
এছাড়াও তিনি নওগাঁয় ধান ও ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
‘আমরা ক্ষমতায় গেলে কেথায় প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি, কোথায় রাষ্ট্রপতির বাড়ি তা দেখে নয় বরং বাংলাদেশের কোন এলাকার মানুষ কষ্টে আছে, তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আমরা সুষম উন্নয়ন করবো। অঞ্চলভিত্তিক নয়। আমরা কাউকে চুরি ও লুট করতে দেব না। ইতোমধ্যে দেশের যে টাকা চুরি হয়েছে সেগুলো পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে উদ্ধার করে আনবো।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দিয়ে জাতিকে পঙ্গু করতে চাই না। যুব সমাজকে পর্যাপ্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। তারা দেশে বিদেশে কাজ করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।’
জনসভায় জামায়াতে ইসলাীর আির নির্বাচিত হলে নওগাঁ এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কেকে/এসএএস