আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালিগঞ্জ) আসনে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠেছে পরিবেশ। প্রার্থীরা তীব্র করছে প্রচার প্রচারণা।
নির্বাচনি প্রচার শুরু করার পর থেকে গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার সবখানেই বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে। দুই উপজেলার ১৪৪ টি ওয়ার্ডে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের সমন্বয়ে ওয়ার্ড কমিটি করে তারা প্রতিদিন তারেক রহমানের দেওয়া নির্বাচনি অঙ্গীকার কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও পোস্টার নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। এতে অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় বিএনপির প্রার্থী প্রচারণায় ব্যাপক এগিয়ে আছেন।
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজসেবক জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল রোজ দিন-রাত তার নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় এখন সরব এই এলাকা। নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী নিজে এবং তার কর্মী-সমর্থকরা দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় একটা ব্যাপক সাড়া মিলছে। ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজ করে যাচ্ছি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আমি দলীয় নেতা কর্মীদেরকে সাথে নিয়ে প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের দেওয়া নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরছি। তাতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিন থেকে এই আসনের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এমপি নির্বাচিত হলে আদিতমারী-কালিগঞ্জের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজসহ উন্নয়ন কর্মকান্ড ও এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এ এলাকার জনগণকে সাথে নিয়ে যাবতীয় উন্নয়ন করে দুই উপজেলাকে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
আদিতমারী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘রোকন উদ্দিন বাবুল বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনে মাঠে ছিলেন। তিনি প্রতিটি আন্দোলনে নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। পাশাপাশি প্রয়াত সাবেক দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে প্রথম সারিতেই ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ বাস্তবায়নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন সক্রিয়। পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি হিসেবে তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে ভোটারগণের মাঝেও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।’
এই আসনে মোট সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল (ধানের শীষ), জামায়াতের প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু (দাড়িপাল্লা), জনতা পার্টির শামীম কামাল (কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মাহফুজুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এলাহান উদ্দিন (লাঙ্গল), কমিউনিস্ট পার্টির নিমাই চন্দ্র রায় (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র মমতাজ আলী শান্ত (মোটরসাইকেল)।
দুই উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৯৬৩ জন। তার মধ্যে পুরষ ২ লক্ষ ১৭ হাজার ২ শত,মহিলা ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৭ শত ৬০ ভোট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনটি মূলত জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। বিএনপি প্রতিবারই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, কোন বারই নির্বাচিত হতে পারেনি। তবে এবার সুযোগ এসেছে, জাতীয় পার্টির তেমন যোগ্য প্রার্থী নাই। তাছাড়া আওয়ামীলীগ তাদের কৃতকর্মের জন্য ভোটের মাঠে নাই। এদের ভোটকে বিএনপির ঘরে নিতে প্রার্থী ও সমর্থকরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
কেকে/এসএএস