আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। পুরো বাংলাদেশজুড়ে নির্বাচনি আমেজ বিরাজমান। তবে একটু বিশেষ নজর যেন থাকছে ৬৮ পাবনা-১ সংসদীয় আসনে। আসনটি সাবেক জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামীর বেশ প্রচার-প্রচারণা দেখা গেলেও নির্বাচনের মাঠে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নির্বাচনি দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে শুরু করেছে ভোটের মাঠের সমীকরণ।
এবারের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও পরিচিত মুখ শামসুর রহমান, যিনি ভিপি শামসুর নামেই বেশি পরিচিত। দুই প্রার্থীই নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে প্রচারণা, গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে—ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আস্থা আগের তুলনায় বেড়েছে। হাটবাজার, গ্রাম ও জনবহুল এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রচারণা, জনসংযোগ এবং ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নানা পারিপার্শ্বিক কারণে জামায়াতে ইসলামের ওপর আস্থা হারাচ্ছে জনগণ। অন্যদিকে ভরসার প্রতীক হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী।
এক মাস আগেও পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। সে সময় বিভিন্ন এলাকায় তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা ও প্রচারণা চোখে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি মাঠের চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নে বিলম্ব এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের একীভূত করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা।
পাবনা-১ সংসদীয় আসনের ভোটার আব্দুস সালাম বলেন, ‘গত তিন নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবার খুব ভালো লাগছে যে ভোট দিতে পারব। আমাদের আসনে মূলত ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লা—এই দুই প্রতীকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। দুইজনই যোগ্য প্রার্থী। তবে ভিপি শামসুর মানুষের সঙ্গে ভালো মিশতে পারেন, মানুষকে আপন করে নিতে পারেন। আমার মনে হয় লোকজন তার ওপরই ভরসা রাখবে।’
আসনের এক তরুণ ভোটার সৈকত হাসান বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে আমাদের বেশিরভাগ তরুণকে বেকার বসে থাকতে হয়। আমাদের মতো তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা কেউ কথা বলে না। এবার আমরা শুধু দল দেখে ভোট দিতে চাই না, প্রার্থী কী করতে পারবেন সেটাও দেখতে চাই। এলাকায় যাকে বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে এবং যিনি মানুষের কথা শুনছেন, তরুণদের বড় একটি অংশ সেদিকেই ঝুঁকবে।’
কোন প্রার্থী এগিয়ে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুইজনই যোগ্য প্রার্থী, একজনকে এগিয়ে রাখা কিছুটা কঠিন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেল-জুলুম সহ্য করেই এই মাটি আঁকড়ে ধরে ছিলেন। এগিয়ে রাখতে বললে আমার মনে হয় তিনিই এগিয়ে থাকবেন।’
আরেক ভোটার আবু তালেব বলেন, ‘ভোট দেওয়া যেমন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, তেমনি যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনও আমাদের কর্তব্য। যে দেশ ও মাটি নিয়ে চিন্তা করবে, আমরা তাকেই ভোট দেব। যে আমাদের সঙ্গে মিশতে পারবে, আমরাও তার পাশে থাকব। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এগিয়ে রাখব।’
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন।
কেকে/এলএ