অন্যায় করে পরে এটাকে তুচ্ছ করে দেখানোর মানসিকতা থেকেও সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির আব্দুল হামীদ বলেছেন, ‘আল্লাহ মানুষকে ন্যায়নীতি কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর বান্দাদের মানুষের উপকারে আসতে হবে, খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে কোনো ধরনের বিদ্রূপ বা অন্যায় করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার গেন্ডারিয়ায় ধুপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী হোসেনের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় আব্দুল হামীদ আরও বলেন, ‘সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক। তার খাতিরেই আমি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন।
‘বাংলাদেশ মুসলমানদের দেশ—এ দেশ আলেম-ওলামা, পীর-মুর্শিদ, মসজিদ-মাদ্রাসার দেশ। ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে, পীর বা আলেম সেজে যারা কোরআন-হাদিসের খেলাফ কাজ করে, তাদের এ ধোঁকাবাজি মেনে নেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘অজান্তে ভুল করা আর জেনে-বুঝে হাদিসের বিরোধিতা করা এক নয়। যারা নবীর সাহাবিদের মানে না, ন্যায়বিচার মানে না—তারা আলেম নামে কলঙ্ক, মুসলমানের দুশমন এবং আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) দুশমন।’
এদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান আব্দুল হামীদ।
জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জালিম হওয়া যাবে না, জুলুম করা যাবে না। অতীতে ফেরাউন, নমরুদসহ জালিম শাসকদের যে পরিণতি হয়েছে, বর্তমান সময়েও জালিমদের সেই একই পরিণতি হয়েছে।’
ক্ষমতায় আসলে যেন কোনো ধরনের জুলুম না হয়—এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার যেন না হয়।’
আব্দুল হামীদ ইসলামের নামে প্রতারণা, চুরি, ডাকাতি ও হারাম কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘হারামে কোনো শান্তি নেই—হারাম রাজনীতিতে, হারাম অস্ত্রে কিংবা বাতিলের সঙ্গে কোনো আরাম নেই।’
তিনি বলেন, ‘নবীর পরে কোনো নবী নেই, বিদআতে হেদায়েত নেই।’
আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় নেক শাসন, ভালো শাসন ও ন্যায়বান লোকের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আব্দুল হামীদ বলেন, ‘আল্লাহ যেন সবাইকে জালিম হওয়া থেকে রক্ষা করেন।’
তিনি ইশরাককে সকলের সম্মিলিত বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘এই ছেলেকে দিয়ে কাজ হবে ইনশাল্লাহ।’
ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টুর সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর, বিএনপির সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভুইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মকবুল হোসেন টিপু, আব্দুস সাত্তার, জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন তুহিন, সদস্য সচিব মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদির, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, বিএনপির নেতা লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুক্তো।
কেকে/এমএ