দীর্ঘ বহু বছর পর নিজের নানীবাড়ি দিনাজপুরে এসে আবেগঘন স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিনাজপুরের মানুষকে নাতি-নানীর সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ করে তিনি বলেন, ভোটই হতে পারে জনগণের অধিকার ফেরানোর সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে বহু বছর পর আমি আমার নানীবাড়িতে এসেছি। নানীবাড়িতে এলে নাতিকে যেমন ভালোবাসা ও আপ্যায়নে ভরিয়ে দেওয়া হয়, ঠিক তেমনই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।”
তিনি বলেন, “নানীবাড়িতে নাতি এলে যেমন খালি হাতে পাঠানো হয় না, তেমনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোট দিয়েই জনগণকে তাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। নাতি যখন আসে, তাকে কিছু না দিলে কি চলে, ঠিক তেমনি ভোট দিয়েই মানুষ তার প্রাপ্য বুঝে নেবে।”
বিএনপির চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল ও সারাদেশের মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। নারীদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, তরুণ ও যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে—রাস্তাঘাট সংস্কার হয়নি, মিল-ফ্যাক্টরি গড়ে ওঠেনি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।’
দিনাজপুরের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “এই অঞ্চলের উন্নয়নের চাবিকাঠি কৃষির সঙ্গে শিল্পায়নের সমন্বয়। দিনাজপুরের লিচু শুধু দেশে নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত।”
“কিন্তু আজও আমরা লিচু প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠাতে পারিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করে দিনাজপুরের লিচু বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
একই সঙ্গে কাঠারিভোগ চাল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পকারখানা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “দিনাজপুরে ভোকেশনাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুবকদের কারিগরি শিক্ষা ও বিদেশি ভাষা শেখানো হবে, যাতে তারা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় এবং স্বাবলম্বী হতে পারে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবুও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি বলেছেন—বাংলাদেশই তার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই তার শেষ ঠিকানা।”
শেষদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “নানীবাড়িতে এসে খুশিতে অনেক কথা বলতেই ভুলে গেছি। আম—ম্যাঙ্গো—এই আম দিয়েই একদিন পৃথিবীর মানুষ দিনাজপুরকে চিনবে। ইনশাআল্লাহ, দিনাজপুরের আম ও আম থেকে তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার সব ব্যবস্থা আমরা করব।”
বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য দিনাজপুরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
কেকে/এলএ