জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটির ওপর আল্লাহ তায়ালা যদি আমাদেরকে এই দেশের সেবকের দায়িত্ব দেন, এক ইঞ্চি মাটির ওপর কেউ আর চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
বক্তৃতায় তিনি জামায়াত প্রার্থীদের জয়ী করার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’–তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।’
রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কোনো অফিস-আদালত বা কার্যালয়ে কারো ঘুষ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং ঘুষ খাওয়ার সাহসও হবে না। কিন্তু প্রতিটি নাগরিক সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবে।’
নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত না করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয় বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনসাফভিত্তিক নয়। সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই এটা পর্যাপ্ত নয়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি তার একান্ত প্রয়োজন পূরণ না করে, সে যদি তার প্রয়োজন পূরণের জন্য কোনো অপরাধ করে রাষ্ট্রের কোনো অধিকার নাই ওই অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়ার। আগে তাকে সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।’
দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা জনগণের হক আত্মসাৎ করেছে, তারা যদি স্বেচ্ছায় ফেরত দেয় তাহলে অবশ্যই তারা অভিনন্দিত হবে। কিন্তু যদি ফেরত না দেয়, রাষ্ট্র ইনশাআল্লাহ ওদের মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে বের করে নিয়ে আসবে।’
‘উদ্ধার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত করা হবে এবং সেই অর্থ দিয়েই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে। যে এলাকা যত বেশি বঞ্চিত, সেই এলাকাতেই সর্বপ্রথম উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। যদি আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আমার উপর এসে যায়, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চিতেও আমি বেইনসাফি করতে পারব না। প্রতি ইঞ্চি মাটি তখন আমার কাছে তার পাওনা বুঝে নেবে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারলে জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ বাস্তব রূপ পাবে।’
নিজের এক্স একাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘একদল মা বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে? চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনো তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি।’
জনসভা শেষে তিনি বলেন, ‘আমি এই সিলেটের সন্তান। আমি এখানে আপনাদের কোলে লালিত হয়েছি। আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের এইবার সুযোগ দেন। আমরা দেশের মালিক বনবো না। আপনাদের চৌকিদার হবো। যার যা মর্যাদা তা নিশ্চিত করবো।’
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে দুপুর থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসেন। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারী অংশ নেন।
কেকে/এসএএস