ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চলের পানির অভাব মেটাতে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া তিনটার দিকে উপজেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই অঙ্গীকার করেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে তাকে বরণ করে নিতে আগে সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি ঘোষণা করেন, দিনাজপুরের জগৎবিখ্যাত লিচু ও আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী কী করবে, তার একটি রূপরেখা দেন তারেক রহমান।
তিনি জানান, প্রতিটি গৃহিণী ও খেটে খাওয়া নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। ক্ষুদ্র কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা সরকার বহন করবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষকদের কম্পিউটার প্রদান এবং তরুণদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়া হবে। গ্রামে গ্রামে এক লক্ষ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিচয় ধর্ম বা জাত দিয়ে নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে হবে।’
তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশই উনার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমাদেরও লক্ষ্য হওয়া উচিত করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
জনসভা শেষে তিনি মঞ্চে উপস্থিত দিনাজপুরের ধানের শীষের প্রার্থীদের জনগণের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দেন এবং আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ডাক দেন।
কেকে/এসএএস