মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৬ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
নির্বাচনে না থেকেও গোপালগঞ্জ–১ আসনে ‘বড় ফ্যাক্টর’ আ. লীগের ভোটার
নেওয়াজ আহমেদ পরশ, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ)
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৩ পিএম আপডেট: ০৮.০২.২০২৬ ৪:০৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ–১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে নেই। রাজনৈতিক কার্যক্রমও রয়েছে স্থগিত অবস্থায়। মাঠে নেই দলীয় প্রার্থী, নেই প্রকাশ্য প্রচারণা, নেই নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি। তবুও বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে—এই আসনের ভোটের সমীকরণ নির্ধারণে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররাই এখন সবচেয়ে বড় ও নির্ণায়ক ‘ফ্যাক্টর’।

নির্বাচনি মাঠে দৃশ্যমান অনুপস্থিতির বিপরীতে আওয়ামী লীগের এই নীরব উপস্থিতি পুরো নির্বাচনি চিত্রকে জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জ–১ আসনে জয়–পরাজয়ের হিসাব নির্ভর করছে সরাসরি প্রার্থীদের শক্তি বা জোট সমীকরণের ওপর নয়; বরং নির্ভর করছে সেই বিপুল ভোটব্যাংকের আচরণের ওপর—তারা ভোট দেবে কি না, দিলে কাকে দেবে, নাকি সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকবে।

গোপালগঞ্জ–১ আসন ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলায় দলটির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং তৃণমূল পর্যায়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের প্রভাব রয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত ধারণা। গত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ না নিলেও, তাদের সমর্থক ভোটারদের আচরণ উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একজন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটাররা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই হবে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি। তারা এখন কার্যত ‘কিংমেকার’।” নির্বাচনি মাঠে থাকা একাধিক প্রার্থীর প্রচারণায় সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ না হলেও, ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে দলটির সমর্থকদের আকৃষ্ট করার কৌশল স্পষ্ট। উন্নয়ন ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা এবং ‘ভোট নষ্ট না করার’ মতো শব্দচয়ন বারবার উঠে আসছে নির্বাচনি ভাষণে।

স্থানীয় এক প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ এক কর্মী বলেন, “আওয়ামী ভোটারদের বাদ দিয়ে এখানে কোনো হিসাব করা যায় না। তারা যেদিকে যাবে, ফল সেদিকেই যাবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তার শরিকরা জোটগতভাবে অংশ নিলেও গোপালগঞ্জ–১ আসনে জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই রাজনৈতিক ধারার একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট বিভাজনের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জোটপ্রার্থীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের অন্তত একটি অংশকে নিজেদের পক্ষে টানা অথবা তাদের নিরপেক্ষ রাখা। একজন বিএনপি-সমর্থক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আওয়ামী ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে না আসে, টার্নআউট কমবে। আর যদি তারা কৌশলগতভাবে কাউকে সমর্থন দেয়, তাহলে পুরো ফল উল্টে যেতে পারে।”

এদিকে গোপালগঞ্জ–১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ভোটকৌশলও আলোচনায় এসেছে। দলটি নিজস্ব সমর্থনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘নীরব ভোট’কে লক্ষ্য করেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গোপালগঞ্জে জামায়াত কখনোই প্রধান শক্তি ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় সেই শূন্যতা কাজে লাগাতে চাইছে দলটি। যদিও ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের অবস্থান বিপরীত মেরুতে থাকায়, আওয়ামী ভোটারদের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে গ্রহণ করবে কি না—তা নিয়ে রয়েছে গভীর সন্দেহ।

নির্বাচনকে ঘিরে কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীন দলের দীর্ঘদিনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা থামছে না। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি—এই দুই বিষয়ই এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে।

কাশিয়ানীর এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ সমর্থক বলেন, “আমরা প্রার্থী না পেলেও ভোটার তো আছি। সবাই নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেবে। এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটাররা সব সময়ই নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি নিয়মিত ৭৮ থেকে ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। এই ধারাবাহিকতাই প্রমাণ করে—গোপালগঞ্জ–১ আসনের ফলাফল কেবল প্রার্থীর প্রচারণার ওপর নির্ভর করে না; বরং সুসংগঠিত ভোটব্যাংকের আচরণই মূল নিয়ামক।”

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরব ভোটই হতে পারে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত উপাদান। ভোটার উপস্থিতি কমলে কিংবা হঠাৎ কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী ভোটারদের কৌশলগত সমর্থন মিললে, শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে ফলাফল। সব মিলিয়ে, ভোটের মাঠে দৃশ্যমানভাবে অনুপস্থিত থেকেও গোপালগঞ্জ–১ আসনের নির্বাচনি বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররাই এখন সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি। কাশিয়ানী–মুকসুদপুরে কে জিতবেন, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—এই নীরব ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নির্বাচন   গোপালগঞ্জ   আ. লীগ   ভোটার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close