রংপুর-১ আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কমিটির চেয়ারম্যান ও রংপুর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. সামিউল আলম স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিস দেওয়া হয়েছে।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন স্থানে গাছের সঙ্গে ফেস্টুন টানানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫’-এর বিধি ৭ (গ) লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মো. মোকাররম হোসেন সুজনের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রো পুলিশ লাইনের পাশে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল পোস্টার আকারে সাঁটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা একই বিধিমালার বিধি ৭ (ক) লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নোটিসে এ ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনের সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে। আচরণবিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় দুই প্রার্থীকে আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রংপুর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মো. রায়হান সিরাজীকে সকাল ১১টায় এবং মো. মোকাররম হোসেন সুজনকে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রায়হান সিরাজী বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যেকোনো অভিযোগের জবাব আইন অনুযায়ী দেওয়া হবে।’
মোকাররম হোসেন সুজন জানান, বিধি অনুযায়ী লিখিত জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে, নোটিস দ্রুত জারি ও কার্যকর করার জন্য গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, ‘কমিটির নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কাছে নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হবে।’
কমিটির চেয়ারম্যান মো. সামিউল আলম বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিটি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
কেকে/এমএ