পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে আরাফিন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাফামনির বাবা সহিদুল মোল্লা বাদী হয়ে দশমিনা থানায় আরাফিন ও তার বন্ধু ইমামকে আসামী করে মামলা করেন। শনিবার রাতেই আরাফিনকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতার আরাফিন উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মনির খলিফার ছোট ছেলে।
থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাহিদুল মোল্লার এক মাত্র কন্যা ও বেগম আরেমফাতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাফামনির সাথে একই এলাকার আরাফিনের সাথে পরিচয়। পরিচয়ের পর স্কুলে যাওয়া আসার সময় প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে স্কুলে যাওয়া আসার সময় বিরক্ত করতো। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখালের তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। ওই সম্পর্কের কারণে আরাফিন তাকে নিয়ে বাউফল বানিজ্য মেলায় নিয়ে ঘুরতে যায়। রাতে বাসায় বাবা-মা না থাকায় রাত্রিযাপন করে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের জন্য বারবার বললে আরাফিন নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখায়। এই ঘটনা জানাজানি হলে আরাফিন আত্মগোপনে থাকে। সাফামনির পরিবার আরাফিনের বাবা-মাকে ঘটনার বিষয় বললে তারা প্রত্যাখান করে এবং টাকার লোভ দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
সাফামনির বাবা সহিদুল মোল্লা জানান, আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে আরাফিন ও তাকে সহযোগিতা করে ইমাম। আমি ঘটনার বিষয় অবহিত হলে ছেলের পরিবারের সাথে আলোচনা করি। আমাকে টাকার লোভ দেখিয়ে ঘটনার বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে। আমাকে ভয়ভীতি দেখায় যেন এই ঘটনা নিয়ে সামনের দিকে না আগাই। আমি বাদী হয়ে দশমিনা থানায় ধর্ষণ মামলা করি।
সাফামনি বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার সময় আরাফিন বিরক্ত করতো। পরে আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে। আমাকে বিয়ের কথা বললে আমি রাজি হই। আমাকে তার বাসায় নিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে বিয়ের কথা বললে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি ঘটনার বিষয় আমার বাবা-মাকে জানালে আমার বাবা থানায় মামলা করে। আমি আইনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, শনিবার সাইদুল মোল্লা নামের একজনের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে এক নম্বর আসামী আরাফিনকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কেকে/এসএএস