নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, ‘শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সচেতন নেতৃত্ব ছাড়া কোনো এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন প্রকল্প আনা নয়; আইন প্রণয়ন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তার মূল কাজ। সেখানে অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব থাকলে দেশ ও রাজনীতি—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মারবদী এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় গিয়াসউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ—এই বয়সেও মানুষের জন্য কাজ করার শক্তি ও সুযোগ তিনি আমাকে দিয়েছেন। আজ যারা সময় বের করে এখানে এসেছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
নিজের জীবনসংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকাল থেকেই আমি নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলাম।’
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে যুক্ত থাকার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার চেতনাই আজও তাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।’
‘আমার প্রধান পরিচয় একজন শিক্ষক। পাশাপাশি আমি একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে একটি কলেজ, দুইটি মাদ্রাসা ও তিনটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।’
রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, সোনারগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এখানকার সাধারণ মানুষের অনুরোধেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’
‘আমি কখনো সোনারগাঁওয়ের মানুষের কাছে কিছু চাইনি। বরং তারাই আমাকে নির্বাচনে আসতে বলেছেন।”
দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতেই দল প্রার্থী দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।’
‘ভোটই প্রমাণ করবে কে যোগ্য। শিক্ষিত নেতৃত্ব ছাড়া আইন প্রণয়ন ও উন্নয়ন—দুটোই ব্যাহত হবে।’
গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই আমি অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতেই আমি এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’
‘মানুষ অনেক সময় প্রকাশ্যে কথা বলে না, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানায়। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি নির্বাচনের মাঠে আছি।’
সভায় সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম স্বপন, সনমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রমজান সরকার, সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেলেয়ার, মালিবাগ কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোতালেব, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ