জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী ভোটারদের কাছে টানতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীদের সহধর্মিণীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পথে-প্রান্তরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা। কখনো দিচ্ছেন স্লোগান। কখনো নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিছিলের। আবার কখনো উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন।
নিজেরা প্রার্থী না হলেও স্বামীর পক্ষে ভোটের মাঠে তাদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের সমর্থন পেতে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে প্রার্থীদের স্ত্রীরা এখন ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখে চলেছেন।
হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩১০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৪ জন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম, ১১ দলীয় জোটের আবদুল হান্নান মাসউদ এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর উদ্দিন রাজিব ও ফজলুল আজিম সমানতালে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
প্রতিদিন চার প্রার্থীর পক্ষে মিছিল-মিটিংয়ে সরগরম হয়ে উঠছে হাতিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল। দুপুরের পর থেকে মাইকিং মিছিল, উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত থাকেন কর্মী-সমর্থকেরা। তবে এসব প্রচারণার ভিড়ে প্রার্থীদের সহধর্মিণীদের সরাসরি মাঠে নামার বিষয়টি সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত হয়ে উঠেছে।
এ পর্যন্ত মাঠে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের স্ত্রী শিরিন আক্তার আইভিকে। একইভাবে প্রচারণার শুরু থেকেই মাঠে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের স্ত্রীও গত কয়েক দিন ধরে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
নারী ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীদের এই অভিনব কৌশল নির্বাচনি মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গ্রামের নারীরা প্রার্থীদের স্ত্রীদের কাছে পেয়ে আনন্দিত। তারা মন খুলে নিজেদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা বলছেন।
স্থানীয় নারী ভোটার জুলেখা বেগম বলেন, ‘গতকাল শামীম সাহেবের বউ এসেছিল। আজকে হান্নান সাহেবের বউ এসেছে। তাদের সাথে আমরা মন খুলে কথা বলতে পারছি। পুরুষ মানুষ আসলে তো ঠিকমতো কথা বলা যায় না।’
নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই উঠান বৈঠক ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। শ্বশুরবাড়িতে প্রথম এসেই তিনি স্বামীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে নেমে পড়েছেন।
শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, ‘হাতিয়ার মানুষ খুবই আন্তরিক। যেখানে যাই, সবাই খুব আপন করে নেয়। তাদের ভালোবাসা পেয়ে আমি মুগ্ধ। হান্নান মাসউদ যে অল্প সময়ের মধ্যে দ্বীপের মানুষের জন্য কিছু করেছেন, এটাই তার প্রমাণ। নারীরা আমাকে কাছে পেয়ে তাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নানা চাহিদার কথা খুলে বলছেন। আমিও তাদের আশ্বস্ত করেছি, আমরা এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।’
এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের সহধর্মিণী শিরিন আক্তার আইভিও। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রার্থীর বোনেরাও। স্বামীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে প্রতিদিন তিনি ছুটে যাচ্ছেন বেড়িবাঁধের ধারে কিংবা পাড়া-মহল্লায়।
শিরিন আক্তার আইভি বলেন, ‘আমি পৌরসভা থেকে শুরু করে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে যাচ্ছি। যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেহ মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। ধানের শীষের প্রার্থীর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলে নারীরা বুকে জড়িয়ে নেয়। দীর্ঘ অনেক বছর তারা ধানের শীষে ভোট দিতে পারেনি, এবার ভোট দেবে এতে তারা খুব খুশি। নারীরা আমার সঙ্গে প্রাণখুলে কথা বলছেন। বলেছেন নানা সমস্যার কথা। ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম নির্বাচিত হলে তাদের সকল সমস্যা দূরীভূত হবে ইনশাআল্লাহ।’
স্থানীয়রা মনে করছেন, নারী ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছে তাদের কথা শোনা এবং আস্থার জায়গা তৈরি করতেই প্রার্থীদের সহধর্মিণীদের এই মাঠপর্যায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় এটি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কেকে/এসএএস