সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, গাজীপুর-৩ আসনে নির্বাচনী মাঠে ততই উত্তাপ বাড়ছে। যদিও সবাই এখন শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত।
নির্বাচনী মারপ্যাঁচে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বাদ পড়ায় বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে। তবে জয়ের হাল ছাড়তে নারাজ খেলাফত মজলিস, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। ফলে এ আসনটিতে বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর করে তুলেছে।
দলীয় ঐক্যে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রার্থিতা নয়, এটি গাজীপুর-৩ আসনের বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বহু বছর পর দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটিকে আমি সম্মানের সঙ্গে দেখছি। নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমি আশাবাদী।
এবারের নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসনে অপর প্রার্থীরা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান মিলন (ঘোড়া), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক (রিকশা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আশিকুল ইসলাম পিয়াল (মই), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন (লাঙ্গল) এবং ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ (মিনার)।
তবে ভোটারদের মতে, এই সাতজনের মধ্যে মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান মিলনের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান মিলনের বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যেই জনগণ আমাদের ভোট দেবে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলমগীর হোসাইন বলেন, আমরা কোরআনের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্যই লড়াই করি। একই মত জানান ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মুফতি শামীম আহমেদ।
তবে তৌহিদী জনতার একাংশ বলছে, ইসলামি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে দেশে ভিন্ন রকম ফলাফল আসতে পারত। নিজেদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে সাধারণ মানুষ কিভাবে তাদের প্রতি আস্থা রাখবে— এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বৈঠক, গণসংযোগ এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তৃণমূল ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতেও জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, স্বাধীনতার পর এই আসনে প্রথমবারের মতো সরাসরি স্থানীয় একজন দলীয় প্রার্থী পেয়েছে বিএনপি। এবার শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ–স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
এর আগে, বিগত সব সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী এবং একবার দলের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক এম এ মান্নান বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। সরাসরি স্থানীয় দলীয় প্রার্থী না থাকায় এ আসন থেকে কখনো বিএনপি জয়লাভ করতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের পাশে ছিলেন ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলনকে আগে জনসেবামূলক তেমন কোনো কাজে দেখা যায়নি। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এহসানুল হক কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তৃণমূলে তার পরিচিতি তুলনামূলক কম। সব মিলিয়ে ১২ তারিখের ভোটই বলে দেবে— কার প্রতি ভোটারদের আস্থা বেশি।
প্রসঙ্গত, গাজীপুর-৩ সংসদীয় আসনে একটি পৌরসভা ও দুই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ১৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৮০টি এবং ভোটকক্ষ ৯৮৯টি।
কেকে/এমএস