আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণের সামনে তিনি এ ইশতেহার তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে ঢাকা-১০ আসনকে একটি আদর্শ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে মোট ১৮ দফা উন্নয়ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ইশতেহারে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পিত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজটমুক্ত সড়ক ব্যবস্থা এবং নিরাপদ নগর গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা—
স্মার্ট ও ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা: ধানমন্ডি ও আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা।
জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
নিরাপদ সড়ক ও যানজট নিয়ন্ত্রণ: সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক পরিকল্পনা ও বিকল্প সড়ক ব্যবহারের মাধ্যমে নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ এলাকার যানজট হ্রাস।
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ: তরুণ সমাজকে রক্ষায় মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।
ব্যবসায়ীবান্ধব পরিবেশ: নিউমার্কেটসহ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়াও ইশতেহারে দুর্নীতি নির্মূল ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা জোরদার, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, যুব ও ক্রীড়া কার্যক্রম, প্রবাসী কল্যাণ, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পার্ক ও লেক সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্যাস সংকট নিরসনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, “ঢাকা-১০ আসন দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানকার বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা বাস্তবভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। জনগণ যদি আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন, তবে ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার ঘোষণার পর থেকেই ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেকে/এজে