ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ আসনে (ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর) জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মাদ আলী আছগার তার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। এতে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ১৬ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাবনার ভাঙ্গুড়া সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
এ সময় উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের নেতারা জামায়াতে যোগদান করেন। এর আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশে সমবেত হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মহির উদ্দিন।
জনসভা শেষে মাওলানা আলী আছগার তার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ঘোষিত ১৬ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—
১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২০২৪ সালের বিপ্লবের চেতনা ধারণ।
২. শিক্ষার মান উন্নয়নে কৃষি ইনস্টিটিউট ও ফিশারিজ কলেজ স্থাপন, কলেজে অনার্সের বিষয় ও সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও গুণগত মান উন্নয়ন, মাদ্রাসা শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও ভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন।
৩. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
৪. পৌরসভাগুলোকে আধুনিকায়ন করে প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি।
৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ।
৬. যুবক ও বেকারদের কর্মসংস্থানে কুটির শিল্প, হস্তশিল্প ও খাদ্য উৎপাদনে ঋণ সহায়তা এবং এআই, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রশিক্ষণ।
৭. সুদমুক্ত কৃষিঋণ প্রদান, কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, খাল খনন, পানি নিষ্কাশন, বিল উন্নয়ন ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।
৮. পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ।
৯. আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিতদের অধিকার নিশ্চিতকরণ।
১০. নারী ও শিশু কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
১১. যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সংস্কৃতিচর্চা বৃদ্ধি এবং তিন উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ।
১২. জলাবদ্ধতা নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
১৩. নদী এলাকার সেবা ও উন্নয়ন বৃদ্ধি।
১৪. শ্রমিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
১৫. রেমিটেন্স যোদ্ধা ও যুবকদের প্রশিক্ষণ এবং হয়রানিমুক্তভাবে অর্থ লেনদেন নিশ্চিতকরণ।
১৬. সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাশেমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন পাবনা জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি ও পাবনা-৩ আসনের পরিচালক এস. এম. সোহেল, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এজিএস সামিউল হাসান শোভন, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু হুরায়রা রিদয়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে ভাঙ্গুড়া উপজেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এলএ