মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৬ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
আত্রাই-রাণীনগরে নির্বাচনি লড়াই হবে ত্রিমুখী
নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি আর মাত্র দুই দিন। ইতোমধ্যেই প্রার্থীদের প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে। এখন চলছে চুলচেরা হিসাব-নিকাশের পালা। তাই, নির্বাচনের সময় যতই কমে যাচ্ছে, ততই ব্যস্ততার সাথে টেনশনও বাড়ছে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের। 

নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বশেষ আসন নওগাঁ-৬। আত্রাই-রাণীনগর এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু, মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. খবিরুল ইসলাম, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম ও হাতি প্রতীকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান রতন মোল্লা। 

এই পাঁচজন প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটের মাধ্যমে। 

দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে এবার মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার দেবেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০-৬০ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার আছে। যা মোট ভোটারের ১৭ শতাংশ। 

একসময়ের বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। সেই কারণে এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখী। যদিও দলীয় প্রতীক একটা বড় ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করবে, থাকবে সুবিধাস্থানে। তারপরও অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। 

বিএনপি ও জামায়াতে ইলামীর আছে একটা নিদির্ষ্ট ভোট ব্যাংক। দুই দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কর্মীরা তাদের সমর্থন ও ভোট বাড়ানোর চেষ্টায় কাজ করে গেছেন। এদিকে, আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে বিএনপি কি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে? এমনই প্রশ্নসহ ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায় আছেন কর্মী সমর্থকরা। 

নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গেছেন প্রার্থীরা। দিয়েছেন নিজ নিজ দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নানা প্রতিশ্রুতি। উদ্দেশ্য এলাকায় দলের প্রতীকে জয়ী হওয়া। তবে, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের গেম চেঞ্জার হতে পারেন সংখ্যালঘু ভোটাররা। তারা হতে পারে এই নির্বাচনে ‘ট্রাম্পকার্ড’। কারণ, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। এছাড়া বিগত দিনে এই আসনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটাররাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যার কারণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারাই এই আসনের প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই কোন প্রার্থী হাসবে বিজয়ের হাসি, পড়বে জয়ের মালা তা বলা মুশকিল।

সেই সাথে মোট ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। নির্বাচনে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে, এর সঙ্গে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিশেষ গরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এখন সংখ্যালঘু ও নারীদের উপস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে। গোলমালের আশঙ্কা থাকলে তারা অনেকেই হয়তো নাও যেতে পারে। হ্যারাসড হতে চান না কেউ। ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হয়, সেটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। ভোটার উপস্থিতিতেও নিরাপত্তার ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যাচ্ছে। অলরেডি সকালে গিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কাজেই যদি সকালের দিকেই মারামারির মতো ঘটনা ঘটে তাহলে তো ভোটাররা ভয়ে আসতে চাইবে না।

তবে, নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাপক উৎসবমূখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আসনের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটারদের আশা ও প্রত্যাশা একটা সুরক্ষিত বাংলাদেশ। সবার জন্য ভাল হবে এমন পরিবেশ। যেদলই ক্ষমতায় আসুক- তাদের অধিকার যাতে পূরণ হয়। তাদের চাওয়া নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দেশ সংস্কার ও বাক স্বাধীনতা।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা উন্নয়ন ও সুশাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান এসব বিষয় এবার ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৫৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট নির্বিঘ্নে করতে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট কথা, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

আত্রাই ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, ‘এই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৬০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসাবে আমলে নেওয়া হয়েছে। তবে, সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট প্রদানের জন্য সব ব্যবস্থা নিয়েছি।’

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ ও আত্রাই থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  আত্রাই রাণীনগর   নির্বাচনি লড়াই  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close