মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসন থেকে বিএনপি ঐক্য জোটের মনোনীত ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বিকালে ও রাতে উপজেলা জামায়াত ইসলামের কার্যালয়ে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. মহসিন জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
ভোটের বাকী মাত্র ২ দিন বাকি থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এখনো ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন—এমন অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মহসিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটার ও এজেন্টদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের দুই দিন আগে দাঁড়িয়ে এই নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ।’
মোহাম্মদ মহসিন দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ৩৩টি ভোটকেন্দ্র থেকে আমাকে ও এজেন্টদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু একটি অভিযোগেরও দৃশ্যমান নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে—এমনটা বলার কোনো সুযোগ নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যদি প্রশাসন সক্রিয় থাকতো, তাহলে প্রকাশ্যে এ ধরনের হুমকি দেওয়ার সাহস কেউ পেত না। বাস্তবতা হচ্ছে—নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই এসব ঘটছে।’
এসময় তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাথাল প্রতীকের প্রার্থী জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, ‘ভোটার তালিকা ও প্রতীক ব্যবহার করে ঘরে ঘরে প্রচার চালানো হচ্ছে, যা স্পষ্টত আচরণবিধির লঙ্ঘন হলেও প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।’
রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো মহসিন নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কথা নয়, দৃশ্যমান কার্যকর অ্যাকশন চাই। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর কাজী আবুল বাশার, সেক্রেটারি শামীম নুর ইসলাম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাঞ্ছারামপুর পৌর জামায়াতে ইসলামের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমানসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/বি