নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনি মাঠ। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে জানা যায়, এই উপজেলায় হেভিওয়েট প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে ঘিরে এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে জানা যায়, অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ তার প্রতি আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং এলাকার বাস্তবসম্মত উন্নয়ন ভাবনাই জহিরুল ইসলামের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মূল কারণ। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জনমত জরিপের ফল প্রকাশের পর এলাকায় জহিরুল ইসলামের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, এই জনসমর্থন নির্বাচনের দিন ভোটের বাক্সেও প্রতিফলিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নোয়াখালী-১ আসনে জহিরুল ইসলামের পক্ষে নীরব ভোট-বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জহিরুল ইসলাম অন্য প্রার্থীদের উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারি অর্থের দিকে তাকিয়ে না থেকে আপনারা নিজেদের উদ্যোগে মানুষের জন্য কী করেছেন বা কী করতে পারবেন—তা জনগণের সামনে তুলে ধরুন। যদি না পারেন, তাহলে আমি যা করেছি ও ভবিষ্যতে যা করব, সেটার পক্ষে দাঁড়ান। প্রয়োজনে আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’
দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত অর্থায়নে চাটখিল ও সোনাইমুড়ী এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারে তিনজন সিআইপি রয়েছে। আমরা ক্ষমতার স্বাদ নিতে বা ভোগের রাজনীতি করতে আসিনি। রাজনীতি মানে সুবিধা ভোগ নয়—রাজনীতি মানে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সমাজ গড়া।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ধারাবাহিক গণসংযোগের মাধ্যমে অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের কাছে নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, নোয়াখালী-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে।
কেকে/এলএ