মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে ভুঁইফোড় সংস্থার বিতর্কিত জরিপ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪১ এএম আপডেট: ১১.০২.২০২৬ ৭:১৪ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেসরকারিভাবে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু জরিপ। এতে প্রকাশ পাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের চিত্র। এসব জরিপের কোনোটিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আবার কোনোটিতে দেখা যাচ্ছে বিএনপির একক সম্ভাবনা। যা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৈরি করছে চাপা উত্তেজনা।

এমন বৈসাদৃশ্যপূর্ণ জরিপ প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মুহূর্তে দেশে ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৮ লাখ। আর অনানুষ্ঠানিক হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষের ওপর জরিপ করে ১২ কোটি ভোটার এবং ২০ কোটি মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটে কি? এ ছাড়া জরিপে বাস্তবতার কতটুকু প্রতিফলন ঘটে—এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তাদের ভাষ্য, জরিপের ফলাফল সব সময় সত্য নাও হতে পারে। বাস্তবতার সঙ্গে অনেক ফারাক থাকতে পারে। ফলে আগামী নির্বাচনে কোন দল কত ভোট পাবে বা কোন দলের জনপ্রিয়তা কেমন, সেটি যাচাইয়ের একমাত্র উপায় হচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।

অতিসম্প্রতি যে কয়টি জরিপ প্রকাশ পেয়েছে, এর মধ্যে একটিতে দেখা গেছে বিএনপি মোট ভোটের ৭৭ শতাংশ এবং সংসদের ২২০টি আসন পেতে পারে। বাকি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫৭টি, জাতীয় পার্টি ৫টি, এনসিপি ২টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ১৬টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল’ (এনআরসি) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করে।

একই দিনে আরেকটি জরিপে দেখা গেছে পুরো উল্টো চিত্র। ওই জরিপে দেখা যায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১০৫টি সংসদীয় আসনে জয় পাবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জয় পাবে ১০১টিতে। অন্যান্য পাবে ১৯টি আসন। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৭৫টি আসনে। সেদিন সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফার্স হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) নামের একটি সংস্থা এই প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপটি প্রকাশ করে। এ সময় গণভোট নিয়েও একটি জরিপ প্রকাশ করে সংস্থাটি। জরিপে দেখা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পাবে ৮৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ‘না’ ভোট পাবে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ। তাদের দাবি, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের ৬৩ হাজার ৬১৫ জন ভোটারের মতামত নিয়ে জরিপটি করা হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জরিপ করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

এর আগে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিং দুই ধাপে জরিপ পরিচালনা করে। তাদের সর্বশেষ (সেপ্টেম্বর ২০২৫) তথ্যে দেখা যায়, ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান। জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন উঠে এসেছে ৩০ দশমিক ৩ শতাংশে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেছেন ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা। আর জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণদের দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপির সমর্থন দেখানো হয়েছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ। তাদের জরিপে আরও দেখা যায়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের অসন্তুষ্টি সবচেয়ে বেশি, আর সন্তুষ্টির মাত্রায় এগিয়ে আছে জামায়াতে ইসলামী।

অন্যদিকে গত ১-২০ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) জরিপের ফলাফল ইনোভিশনের ঠিক উল্টো। তাদের জরিপে দেখা গেছে, বিএনপিকে ভোট দিতে চান মাত্র ১৬ শতাংশ (পরে ১২ শতাংশ) মানুষ। জামায়াতের সমর্থন দেখানো হয়েছে ১০-১১ শতাংশের কোঠায়। তবে এই জরিপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘সিদ্ধান্তহীন’ বা ‘ভোট দেবেন না’—এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ, বিআইজিডির মতে প্রায় অর্ধেক ভোটার এখনো মনস্থির করেননি বা তারা প্রকাশ করতে চাইছেন না।

সংবাদপত্র প্রথম আলো এবং কিমেকারস কনসাল্টিংয়ের জরিপটি ছিল কিছুটা ভিন্ন ধাঁচের। তারা সরাসরি ‘কাকে ভোট দেবেন’ প্রশ্ন না করে জানতে চেয়েছিল, ‘কে বেশি আসনে জিতবে বলে মনে করেন।’ ফলাফলে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন বিএনপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। ২৬ শতাংশ মনে করেন জামায়াতে ইসলামী বেশি আসন পাবে। ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের জন্য ভালো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) তাদের জরিপে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রিয়তার ওপর বেশি জোর দিয়েছে। তাদের তথ্যে, ৬৯ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর। ৮০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

গত বছরে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথভাবে পরিচালিত ‘ইউথ ইন ট্রানজিশন’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন প্রায় ৩৯ শতাংশ, জামায়াতের ২১ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থন প্রায় ১৬ শতাংশ।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিভ্রান্তি   বাড়াচ্ছে   ভুঁইফোড়   জরিপ   নির্বাচন   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close