শীতলক্ষ্যা, ব্রহ্মপুত্র ও বানার নদীবেষ্টিত ইতিহাস-ঐতিহ্যের লীলাভূমি কাপাসিয়া। এ উপজেলার ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) সংসদীয় আসন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী সালাউদ্দিন আইউবীর পক্ষে ইতোমধ্যেই ব্যাপক ও অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, দাঁড়িপাল্লার গণজাগরণ ততই যেন বেড়ে চলছে। অতীতে কাপাসিয়ায় কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে এমন একক গণজোয়ার দেখা যায়নি। অনেকেই সালাউদ্দিন আইউবীর পক্ষে এমন নির্বাচনি জোয়ারকে বিরল ও অভূতপূর্ব গণজাগরণ বলে অভিহিত করেছেন।
এ গণজোয়ার থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ব্যালট বিপ্লব ঘটবে বলে চাউর হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাউদ্দিন আইউবী একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি তরুণ প্রজন্মের একজন আইকন, কোটি ছাত্র-যুবকের আইডল।
ইসলামি ও আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত সালাউদ্দিন আইউবী বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে হাদিস শাস্ত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রি কামিল পাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি আইনশাস্ত্রে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি তার নির্বাচনি এলাকা কাপাসিয়ায় বিভিন্ন মসজিদে জুমাবারে খুতবা দেওয়া থেকে শুরু করে অসংখ্য জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ ও ইমামতি করে ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সালাউদ্দিন আইউবী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী উপহার, বিনামূল্যে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, অসহায় মানুষের চোখের ছানি অপারেশন, টিউবওয়েল বিতরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে গরু-ছাগল বিতরণ, গৃহনির্মাণে টিন বিতরণ, নতুন মসজিদ ও অজুখানা নির্মাণ, মন্দির সংস্কারে অর্থ বরাদ্দের মতো নানা ধরনের জনহিতকর ও মহৎ কাজ করে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লবের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকায় তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে নির্বাচনি প্রচারণার পারদ এখন তুঙ্গে। এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত নির্বাচনি লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সালাউদ্দিন আইউবী ও বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজের মধ্যে।
ঐতিহ্যবাহী ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক পাটমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহর পুত্র শাহ রিয়াজুল হান্নান।
বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীরই সক্রিয় প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনি মাঠ এখন সরব।
এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য, কাপাসিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মরহুম ডা. সানাউল্লাহর ছেলে মেজর (অব.) শফিউল্লাহ মিঠু। শাহ রিয়াজুল হান্নান ও শফিউল্লাহ মিঠু একই ইউনিয়ন ঘাগটিয়ার বাসিন্দা।
এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এনামুল কবির (লাঙ্গল), কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা কাজিম উদ্দিন (হাতপাখা), আমজনতার জাকির হোসেন (প্রজাতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কাপাসিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৯৫১ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৮০ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি হওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশে এ অংশটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার তরুণ ভোটার রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও প্রথমবারের ভোটার এ নির্বাচনে বিজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুর-৪ আসনে প্রচলিত দলীয় ভোটব্যাংকের পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের মনোভাবই এবার নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। সালাউদ্দিন আইউবী ইতোমধ্যে তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সভা-সমাবেশে তরুণদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি লক্ষণীয়।
তাই সালাউদ্দিন আইউবী তার নির্বাচনি ইশতেহার ও বক্তব্যে তরুণ সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা তুলে ধরছেন।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রভাব বিদ্যমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সালাউদ্দিন আইউবী জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মু. সালাউদ্দিন আইউবী বলেন, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করব, মহান স্বাধীনতাকে ধারণ করব এবং ৭১-কে পুঁজি করে স্বাধীনতাবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে অন্যের দাসত্বে পরিণত হব না। আমরা স্বাধীনভাবে পথ চলব এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা আমাদের পথচলার অনুপ্রেরণা। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই চেতনার পরিপন্থী কোনো কাজ করব না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যে কোনো প্রকার দুর্নীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করা হবে। গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করাই হবে আমাদের লক্ষ্য। তিনি আশা করেন, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককেই পছন্দ করে বেছে নেবে।
নির্বাচনের তারিখ যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রচার-প্রচারণা জোরদার হচ্ছে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ভোটাররা কাকে বেছে নেন, তা নির্ধারণ করবে স্থানীয় চাহিদা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎমুখী প্রত্যাশা—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
শাহ রিয়াজুল হান্নান তার পিতা আসম হান্নান শাহর অসমাপ্ত কাজ ও স্বপ্ন পূরণের কথা বলে ভোট প্রার্থনা করেছেন।
অপরদিকে, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, সুশাসন, মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সুপরিকল্পিত কাপাসিয়া গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সালাউদ্দিন আইউবী।
এবারের নির্বাচনে অনেকেই কাকে ভোট দেবেন—এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। এ নীরব ভোট ব্যালটে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব আওয়ামী লীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু ভোট টানতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা পোষণ করছেন।
ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা এবং মাঠপর্যায়ে সমীকরণ বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে। দু’দলের প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনি ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা থাকলেও সালাউদ্দিন আইউবীর দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় রয়েছে ভিন্নমাত্রা ও নান্দনিকতা।
ইতোমধ্যেই সালাউদ্দিন আইউবী কাপাসিয়া সদরে কয়েকবার মহিলাদের অংশগ্রহণে স্মরণকালের বৃহত্তম নির্বাচনি শোডাউন করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সালাউদ্দিন আইউবীর ছাত্র ও যুব সমাবেশ ছিল সফলতায় ভরা। এ সমাবেশে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক অংশগ্রহণ করে সালাউদ্দিন আইউবীর পক্ষে তাদের ভালোবাসা জানিয়ে তাকে তরুণদের আইকনে অভিষিক্ত করেছেন।
সালাউদ্দিন আইউবী যেখানেই যান, সেখানেই ছুটে যায় মানুষ। উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে প্রতিটি সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিলে মানুষের অংশগ্রহণ যেন স্বতঃস্ফূর্ত। সালাউদ্দিন আইউবীর পক্ষে অনেকটা নিজের খেয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। ছাত্র, যুবক, নারী-পুরুষ ও আবালবৃদ্ধবনিতার ভালোবাসায় সিক্ত সালাউদ্দিন আইউবীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সালাউদ্দিন আইউবীর নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিজয় এখন লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। প্রতিটি বাড়িঘরে, হাট-বাজারে, চা স্টলে চায়ের আড্ডায় দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের কথা আলোচনা হচ্ছে। মুখে মুখে রটে যাচ্ছে—“ইনশাআল্লাহ, দাঁড়িপাল্লা, বারো তারিখ সারাদিন দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিন, সিল মারো ভাই সিল মারো, দাঁড়িপাল্লা মার্কায় সিল মারো।” স্লোগানে মুখরিত জনপদ কাপাসিয়ার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীকের বিজয়ের।
কেকে/এলএ