কক্সবাজারের টেকনাফে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভোটাররা। সীমান্তবর্তী এলাকা, মাদক কারবারিদের তৎপরতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অপহরণ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের দাবি, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রঙ্গীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রঙ্গীখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার থাকতে হবে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই অবৈধ মাদক কারবারিদের সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়ে। অবৈধ অস্ত্রের আনাগোনা বাড়ে, এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এদিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ভোটারদের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় পাহাড়সংলগ্ন ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেক সময় মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতেও আতঙ্ক বোধ করে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা নাশকতা সৃষ্টি করে সহজে পাহাড়ে ঢুকে যায়। নির্বাচনকালীন সময়ে এই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়, ফলে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
অতীতের নির্বাচনে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে হোয়াইক্যং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লম্বাবিল মাদ্রাসা কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, এসব অভিজ্ঞতার কারণে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা বলেন, অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ভোটারদের মতে, কিছু সীমান্তপথে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনাও মাঝেমধ্যে ঘটছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে ক্যাম্পসংলগ্ন ও জনবিচ্ছিন্ন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার না হলে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, ভোটের আগে ও পরে যৌথ বাহিনীর টহল, চেকপোস্ট বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনদের নজরদারি এবং কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়ি ও সীমান্তঘেঁষা ইউনিয়নের কিছু কেন্দ্রকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকায় অতীতে সহিংসতা, অপহরণ, গোলাগুলি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নজির থাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিজিবি, র্যাব ও মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা, দখল বা সহিংসতা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উখিয়া-টেকনাফে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
কেকে/এলএ