মাগুরার নির্বাচনি ইতিহাসে এবার এক ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। রাজপথের দীর্ঘদিনের সঙ্গী বিএনপি ও জামায়াত এবার ভোটের ময়দানে একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় জেলার দুটি আসনেই ভোটের মূল নিয়ন্ত্রণ এখন এই দুই দলের হাতে। তবে দুই আসনের লড়াইয়ের ধরণ ও প্রভাবকগুলো ভিন্ন।
মাগুরা-১ আসনে ফ্যাক্টর যখন 'সাইলেন্ট ভোটার'
মাগুরা-১ (সদর ও শ্রীপুর) আসনে নির্বাচনি লড়াই এখন দ্বিমুখী। এখানে বিএনপির প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খানের বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মতিন। এই আসনের বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ ভোটার ও আওয়ামী লীগের বড় একটি 'ভোট ব্যাংক'। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন যারা নৌকায় ভোট দিতেন, তারা এবার বড় একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করবেন। মনোয়ার হোসেন খান এই ভোটারদের নিজের বলয়ে টানতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে আব্দুল মতিন তার সাংগঠনিক শক্তি ও সাধারণ মানুষের পছন্দের জায়গা তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছেন। সাধারণ ভোটারের নীরবতাই শেষ পর্যন্ত এই আসনের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাগুরা-২ আসনে হেভিওয়েট বনাম সাংগঠনিক লড়াই
অন্যদিকে, মাগুরা-২ (মহম্মদপুর, শালিখা ও মাগুরা সদরের চারটি ইউনিয়ন) আসনের দৃশ্যপট আরও বেশি উত্তপ্ত। এখানে বিএনপির হয়ে লড়ছেন হেভিওয়েট প্রার্থী, দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তি ইমেজের বিপরীতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোশতারশেদ বিল্লাহ (এমবি বাকের)। এই আসনে কোনো একক প্রভাবক নয়, বরং লড়াই হচ্ছে সরাসরি দলীয় শক্তির। একদিকে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক, আর অন্যদিকে জামায়াতের শৃঙ্খলিত ভোটার দল—এই দুইয়ের সংঘর্ষে কে শেষ হাসি হাসবেন, তা নিয়ে মহম্মদপুর জুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মাগুরার এই দুটি আসনেই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে 'সাইলেন্ট ফ্যাক্টর'। প্রার্থী যেই হোন না কেন, পর্দার আড়ালের ভোটারদের পছন্দ আর রাজনৈতিক কৌশলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী ৫ বছরের জন্য মাগুরার অভিভাবকত্ব। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট যুদ্ধই বলে দেবে—মাগুরা কি তার পুরনো প্রথা ভাঙবে, নাকি নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হবে।
কেকে/এলএ