ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ (ও মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী অংশবিশেষ) আসনে সকাল থেকে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, বেলা ২টা পর্যন্ত এ আসনে প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।
সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই ঘণ্টা অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। কাশিয়ানী সদর এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রের মাঠ প্রায় ফাঁকা। কোথাও কোথাও দু-একজন ভোটারকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েনি।
সকাল ৯টার পর মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে তখনও কেন্দ্রে ভিড় ছিল না। প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতি ছিল প্রায় সব কেন্দ্রেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
দুপুরের দিকে কাশিয়ানী ও মুকসুদপুরে ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক বাড়ে। যদিও কোথাও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়নি, তবু একের পর এক ভোটার কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটার আনার জন্য ভ্যান দেখা গেছে।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল বিষয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিকেলের দিকে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে ৩৩% ভোট পড়েছে। ভোটগ্রহণ চলছে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাশিয়ানীর এক ভোটার বলেন, “সকালে ভিড় না থাকায় একটু দেরিতে ভোট দিতে এসেছি। পরিবেশ ভালো।” মুকসুদপুরের আরেক ভোটার জানান, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরেছি, কোনো ঝামেলা নেই।”
সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনে দুপুর পর্যন্ত ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। এখন নজর বিকেলের ভোটার উপস্থিতির দিকে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, দিন শেষে ভোটের হার আরও বৃদ্ধি পাবে।
কেকে/ এমএস