ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাট-২ সংসদীয় আসন (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) এলাকায় দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি র্যাব ও ভ্রাম্যমাণ টহল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল বারী পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ পেয়েছেন ৯১ হাজার ১২ ভোট। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির (জামায়াত সমর্থিত) ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এস এ জাহিদ পেয়েছেন ১ হাজার ৫১৬ ভোট।
এতে মোট ৬৬ হাজার ১১৬ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আব্দুল বারী বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
কালাই উপজেলার ফলাফল:
কালাই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৩ জন এবং ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৮টি। ধানের শীষ: ৫৯ হাজার ৯৩৩ ভোট, দাঁড়িপাল্লা: ৩৪ হাজার ৩৪৯ ভোট এবং ঈগল: ৩৯০ ভোট। এ উপজেলায় মোট প্রদত্ত ভোট পড়ে ৯৬ হাজার ৫৯৪টি। এর মধ্যে বৈধ ভোট ৯৪ হাজার ৬৭২টি এবং বাতিল ভোট ১ হাজার ৯২২টি। ভোটের হার ছিল ৭৬.৭০ শতাংশ।
ক্ষেতলাল উপজেলার ফলাফল:
ক্ষেতলাল উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৯৭ হাজার ১৩৪ জন এবং কেন্দ্র ছিল ৩০টি। ধানের শীষ: ৪৮ হাজার ১৮৭ ভোট, দাঁড়িপাল্লা: ২২ হাজার ৬১ ভোট এবং ঈগল: ৪৫০ ভোট।
এখানে মোট প্রদত্ত ভোট ৭২ হাজার ৪৮৬টি। বৈধ ভোট ৭০ হাজার ৬৯৭টি এবং বাতিল ভোট ১ হাজার ৭৮৮টি। ভোটের হার ছিল ৭৪.৬২ শতাংশ।
আক্কেলপুর উপজেলার ফলাফল:
আক্কেলপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ২৮ জন এবং ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৬টি। ধানের শীষ: ৪৯ হাজার ৮ ভোট, দাঁড়িপাল্লা: ৩৪ হাজার ৬০২ ভোট এবং ঈগল: ৬৭৬ ভোট। এ উপজেলায় মোট প্রদত্ত ভোট পড়ে ৮৬ হাজার ৪৯৫টি। এর মধ্যে বৈধ ভোট ৮৪ হাজার ২৮৬টি এবং বাতিল ভোট ২ হাজার ২০৯টি। ভোটের হার ছিল ৬৯.১৮ শতাংশ।
উল্লেখ্য, জয়পুরহাট-২ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ২ জন।
দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, স্বতঃস্ফূর্ত ভোটার উপস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় একটি গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হলো জয়পুরহাট-২ আসন।
কেকে/এলএ