ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষে জীবিকার তাদিগে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবী হাজারো মানুষ। কিন্তু কর্মস্থলে ফেরা মানুষদেরকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে কর্মস্থলে ফেরা মানুষরা এমনটাই অভিযোগ করছে।
রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটিতে আসা এসব মানুষ ফিরে যাচ্ছেন কর্মস্থলে। এতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে যানজটও তৈরি হয়েছে।
এদিন বিকালে উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের বাসিন্দা মেহেদী হাসান পিকাআপভ্যানে করে রাজধানীর ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন। রোববার থেকে তার অফিস খোলা। তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ এলাকায় ভোট দিতে এসেছিলেন। আমিও অনেক কষ্ট করে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলাম ভোট দিতে। ভোট দিয়ে খুব ভালো লেগেছে। রোববার থেকে আমার অফিসে ডিউটি করতে হবে। কিন্তু আমি একদিন আগেই চলে যাচ্ছি, কারণ এতদূর জার্নি করে অফিস করা কষ্টকর। শনিবার পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিয়ে রোববার থেকে অফিস করবো। তবে ফেরার পথে দ্বিগুণ ভাড়া বেশি নিচ্ছে চালকরা।
জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা মারজানা প্রীতি প্রিয়া। তিনি বলেন, আমি একটি কোম্পানিতে চাকুরি করি। পরিবারে আমি ছাড়া আয় রোজগারের মতো আর কেউ নেই। বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট এক ভাই বাড়িতে থাকে। আমি যা রোজগার করি তাতেই চলে সংসার। এবার ছুটিতে এসে জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়েছি। খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু যানবাহনে ভাড়া বেশী নিচ্ছে, এতে আমাদের মতো পেশার মানুষদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও এখন ঠিকমতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারলেই স্বস্তি।’
কয়েকজন বাস ও পিকাআপভ্যান চালক জানান, সড়কে যাত্রীর চাপ বেশি তাই ভাড়াও একটু বেশি। নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিশেষ ছুটিতে অন্যান্য শ্রেণি–পেশার মানুষের পাশাপাশি বাড়িতে এসেছিলেন কারখানার শ্রমিকেরাও। আজ তাদেরও অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।
কেকে/ এমএস