জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বন্না আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে গলা ও হাত কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের উত্তর জোড়খালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত বন্না আক্তার মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী।
এ ঘটনায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বন্নার স্বামী মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে নিহতের আপন মামাকে গতকাল রাতেই তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে আজ সকালে আটককৃত সোহেলকে জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, বন্না ছোটবেলা থেকেই তার নানা বাড়ি জোড়খালী এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। প্রায় তিন মাস আগে তিনি মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া ফেরত সুমনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ে পরবর্তীতে তাদের সংসার সুখেই চলছিল।
স্বজনদের মতে, সম্প্রতি বন্না জানতে পারেন যে তার স্বামী সুমন মিয়া প্রবাসে যেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ সময়ে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানার পর বন্না মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং স্বামীকে অটোরিকশা কিনতে নিষেধ করেন। কিন্তু সুমন তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এতে বন্না আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
ঘটনার আগের রাতে বন্নার মামা, খালা ও নানি তাকে বোঝান যে জীবিকার জন্য কাজ করায় কোনো অসম্মান নেই। পরে সবাই তাকে সান্ত্বনা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সকলেই ভোট কেন্দ্রে গেলে বন্না বাড়িতে একা ছিলেন। বাড়ি ফেরার পর তার মামা রক্তাক্ত অবস্থায় বন্নাকে দেখতে পান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে বন্নার মৃত্যু হয়।
স্বজনরা আরও জানান, গত ২০-২৫ দিন ধরে বন্না মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসাও চলছিল। বন্নার মামা হত্যাকাণ্ডের মতো এমন কাজ করতে পারেন না, তিনি বন্নাকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন।
নিহতের স্বামী সুমন মিয়া জানান, তিনি অটোরিকশা চালাতে পারেন না এবং কোনো অটোরিকশা কেনেননি। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর সংসারে সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিলো, কিন্তু এ ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েছেন।
তিনি দাবি করেন, যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয় তবে দোষীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হোক। আর যদি আত্মহত্যা হয়, তবে তার কোনো দাবি নেই।
বন্নার অসুস্থতার কথা সিকার করে সুমন বলেন, সে একটু অসুস্থ ছিলো জানি, তবে এতোটা নয় যে আত্মহত্যা করতে পারে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড।
প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত গৃহবধূ বন্নার স্বামী আজ সকালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
কেকে/এসএএস