কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেছেন, ‘আমি জানি না আমার বক্তব্য প্রশাসন শুনছে কি না। তবে এই প্রশ্নগুলো না তুলে পারছি না। মার্কিন নাগরিক কীভাবে অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্রে গেলেন, কীভাবে পুলিশ প্রটোকল পেলেন—এসব বিষয়ে আমি নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে প্রশ্ন তুলব। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। পক্ষপাতমূলক আচরণের জবাবও দিতে হবে।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাজিতপুর সদরের বাঁশমহল মাঠে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘সেনাবাহিনী দুই দিনের মধ্যে চলে যাবে। তারা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। আমরা এসব বিষয়ে যথাযথ স্থানে লিখিত অভিযোগ করব। নির্বাচন পরিচালনায় কারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটিও আমরা জানি।’
এসময় তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিছু স্থানে পিভিসি ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। “এসিল্যান্ড সাহেব এখনও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় আছেন। আমার চোখের সামনে এখনও ব্যানার ঝুলছে। আমরা আপত্তি তুলেছিলাম। নির্বাচন শেষ হলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? আপত্তি জানাতে হবে কেন—প্রশাসন কোথায় ছিল?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিএনপির এই পরাজিত প্রার্থী বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা আইন নিজের হাতে তুলতে চাই না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তবে আত্মরক্ষার অধিকার সকল নাগরিকের রয়েছে—এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। হামলা বা হত্যার চেষ্টা হলে আমরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করব।’
সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিজয়ী হওয়ার পর কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে বিএনপির নেতাকর্মী, যুবদলের কার্যালয় এবং বিভিন্ন বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক এমএ হেলিম, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি এহসান কুফিয়া এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কাইয়ুম খান হেলাল।
কেকে/এমএফ