মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
রাজনীতি
ঢাকায় বিএনপির হারের নেপথ্যে
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫০ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। তবে রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ৭টিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কাছে পরাজিত হয়েছে। 

বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে পরাজয় তুমুর সমালোচনা মুখে পড়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। মহানগরের আসনে এমন পরাজয়ে ক্ষুব্ধ দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকরা। এর অবশ্য যথেষ্ট কারণও রয়েছে— জামায়াতে ইসলামী অতীতে ঢাকায় একটি আসনও পায়নি। 

দলটির ইতিহাস আমলে নিলে দেখা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে জামায়াতের আসন পাওয়া তাদের বড় সাফল্য। যে দলটি কখনো ঢাকা বিভাগের কোনো আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। সেখানে জামায়াত দুই সিটি করপোরেশনের ১৫টি আসনের মধ্যে ছয়টি নিয়েছে নিজেদের ঝুলিতে। একটি নিশ্চিত করে দিয়েছে তার শরিক এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলামকে।

এদিকে ঢাকা আসনগুলোতে বিএনপি জোটের পরাজয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে ঢাকা আসনগুলোতে হেরেছে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোটগত সীমাবদ্ধতা এবং তরুণ ভোটারদের কাছে প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থতা হারের অন্যতম কারণ। 

অন্যদিকে জামায়াত জোট স্থানীয় নেটওয়ার্ক, জোট সমীকরণ ও শক্তিশালী প্রচার কৌশল কাজে লাগাতে পেরেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পোস্টাল ব্যালটের কারসাজি, ভোটার মাইগ্রেশন— অর্থাৎ তৃণমূলের ভোটার ঢাকায় নির্দিষ্ট আসনে স্থানান্তর, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ভোটারদের বিভক্তি এবং কিছু কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের জামায়াতকে গোপনে সহাযোগিতার কারণে বিএনপি জোটের পরাজয় হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের হস্তক্ষেপও থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে দলের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, মানুষ ভোট দিলেও অনেক আসনে সূক্ষ্ম কৌশলে ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে ঘোষণা করা ফল যোগ করলে ইসির ফলাফলের সঙ্গে বেশ গরমিল দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পরাজিত প্রার্থী।

হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে সরেজমিন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভোটার মাইগ্রেশন ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে এই হারের পেছনে। এছাড়া বিএনপির দলীয় কোন্দল, দুর্বল জোট প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও তলে তলে জামায়াত ইসলামের সঙ্গে আঁতাতের কারণে এমন পরাজয় হয়েছে।

তাছাড়া পরাজিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে কারণ হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে ফল পরিবর্তন করে তাদের অনেক প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছাড়ানোকে দায়ী করছে দলটি। কিছু আসনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কিছু আসনে অব্যবস্থাপনায় বিএনপি পিছিয়ে গেছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়েও পর্যালোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

ঢাকা মহানগরীর ৬ আসনে জয়ী : জামায়াত ঢাকা মহানগরীর ১৬টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬। এ ছাড়া জোটের প্রার্থী এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামও জয় পেয়েছেন। 

ঢাকা-১৬ আসনে পুনর্নির্বাচনের দাবি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আমিনুল হক। গতকাল শনিবার রাজধানীর পল্লবীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর যোগসাজশে তার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ঢাকার কয়েকটি আসনে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে এবং তার অংশ হিসেবেই ঢাকা-১৬ আসনে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। এ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। 

তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হক হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিএনপির এক নেতা বলেন, নির্বাচনে আমাদের পক্ষে জনসমর্থন থাকার পরও পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে অনেক জায়গায় জনগণের রায় পরিবর্তন করা হয়েছে। 

এছাড়া এই আসনে অন্তর্বর্তী সরকারের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। এ আসনে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। এই আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। ঢাকা-১২ আসনে পরাজয়ের পেছনে বিএনপির দুর্বল জোট প্রার্থীকে দায়ী করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাছাড়া দলটির শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সহজেই জিতেছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়েছেন। প্র

তিদ্বন্দ্বী বিএনপির জোট প্রার্থী সাইফুল হক কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম জয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মোট ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। 

তুলির পরাজয়ে পেছনে জামায়াতের মাইগ্রেশন ভোট, দলের কর্মী-সমর্থকের অসহযোগিতা এবং ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ করেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার জয়ে ভোটর মাইগ্রেশনই ব্যাপক প্রভাব রেখেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। তাছাড়া কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগতিা ও প্রশাসনের হাতও থাকতে পারে। 

জামায়াত আমির মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। এছাড়া ঢাকা-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। ঢাকা-৫ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৯ হাজার ১৫০।

তবে জামায়াতের এই জয়ের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে-সেটাই এ দেশে ঘটেছে। জামায়াতের যেটুকু উত্থান হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই হয়েছে। 

কেকে/এমএফ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close