লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী ‘নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ’ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে মামলার পর এখন লাপাত্তা প্রধান অভিযুক্ত আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু (৫৫)। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দিলেও তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আদালতের নির্দেশে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত শুভ। এরপর থেকেই অভিযুক্ত টুলুর মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাদের মূলে রয়েছে ১৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত পাঁচতলা ভবনটি। এর মালিক ছিলেন প্রয়াত এবিএম শরীফ উদ্দিন। এক বছর আগে তার মৃত্যুর পর মালিকানা পান স্ত্রী ও দুই কন্যা। তবে কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় ভাই হিসেবে টুলু আইনের মারপ্যাঁচে মাত্র ১০ শতাংশ অংশের দাবিদার হন।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত সরাসরি আদালতের শরণাপন্ন হলে বিজ্ঞ আদালত সকল দলিলপত্র পর্যালোচনা করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় লালমনিরহাট সদর থানার ওসিকে এটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন আদালত। মামলায় টুলু ছাড়াও আরও ৮-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মালিকপক্ষ সমঝোতার মাধ্যমে তাকে প্রাপ্য অংশ দিতে চাইলেও তিনি পেশিশক্তি খাটিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠান দখল করতে চেয়েছেন। এমনকি আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে তোয়াক্কা না করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহার করেছেন।
ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের জন্য মূল মালিক আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু মনগড়া তথ্য দিয়ে আদালতে মামলা করায় প্রায় সাত মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলায় সুবিধা করতে পারবেন না বুঝতে পেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানটি দখল নিয়েছেন টুলু। আদালত আমাদের সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।’ তার দাবি, মালিকপক্ষ আইনগতভাবে প্রাপ্য অংশ দিতে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও টুলু পুরো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করে আসছিলেন।’
প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার পর থেকে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার কল করে মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল আলম জানান, ‘আদালতের নির্দেশের পরপরই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘টুলু বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার সম্ভাব্য সব আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
কেকে/বি