ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন কাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা যোগাযোগ, বিনোদন এবং অফিসিয়াল কাজ সবই এখন এগুলোর উপর নির্ভর করি। তাই ফোনকে দ্রুত এবং মসৃণভাবে চালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা একটা পর্যায়ে গিয়ে হ্যাং হওয়ার সমস্যায় পড়েন। অর্থাৎ ডিভাইস হ্যাং হয়ে যাওয়া শুরু করে। কোনো অ্যাপ চালানো বা কাজ করা যায় না।
অনেক ব্যবহারকারী জানেন না, অ্যান্ড্রয়েডের ডেভেলপার অপশনে এমন কিছু অপশন আছে যা এই সমস্যা সমাধান করতে পারে নিমিষেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক ছয়টি সমাধান:
১. ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়া সীমিত করা
মাল্টিটাস্কিং সুবিধা দেওয়া হলেও এটি প্রসেসর ও ব্যাটারির উপর চাপ ফেলে। ডেভেলপার অপশনে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়ার সীমা ২ বা তার কমে সেট করলে একসঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাপ চালানো বন্ধ হয় এবং ফোন মসৃণভাবে কাজ করে।
২. লগার বাফারের আকার কমানো
ফোন প্রতিটি কার্যকলাপ লগ করে রাখে। ডিফল্টভাবে বড় বাফার আকার সিপিইউ এবং মেমোরিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এটি ৬৪কে বা ২৫৬কে-তে কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে বা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়। এতে ফোনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩. ফোর্স পিক রিফ্রেশ রেট চালু করা
যদি ব্যাটারি লাইফ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না থাকে, এই সেটিং চালু করলে ফোনের রিফ্রেশ রেট সর্বদা সর্বোচ্চ থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করার সময় এটি আরও মসৃণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
৪. অ্যানিমেশন স্কেল পরিবর্তন করা
অ্যাপের ট্রানজিশন এবং মেনু পপ-আপের অ্যানিমেশন উচ্চ-ক্ষমতার ফোনে সুন্দর হলেও মিড-রেঞ্জ বা এন্ট্রি-লেভেল ফোনকে ধীর করে দিতে পারে। ডেভেলপার অপশনে এগুলি কমানো বা বন্ধ করলে ফোন দ্রুত এবং মসৃণভাবে কাজ করে।
৫. স্টোরেজ ফুল হয়েছে কী না চেক করা
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন থেকে ভালো পারফরম্যান্স চাইলে র্যামের পাশাপাশি এতে দেয়া স্টোরেজের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এ কারণে স্মার্টফোনে অপ্রয়োজনীয় কোনো অ্যাপ বা ফাইল থাকলে তা ফেলে দিতে হবে। এছাড়া ডিভাইসে অতিরিক্ত ছবি-ভিডিও থাকলে সেগুলোকে ক্লাউড স্টোরেজ ও এক্সটার্নাল ডিভাইসে সংরক্ষণ করতে হবে। একই ফাইলের দুটি কপি রয়েছে কিনা সে বিষয়টিও দেখতে হবে।
৬. ভাইরাসের সংক্রমণ চেক করা
সব চেষ্টা চালানোর পরও যদি স্মার্টফোন হ্যাং করে তাহলে ডিভাইসে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে কী না তা দেখতে হবে। কেননা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজিংয়ের সময় বা থার্ড পার্টি সাইট থেকে অ্যাপ নামানোর সময় স্মার্টফোনে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো নিজস্ব সিকিউরিটি ও অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে থাকে। এছাড়া প্লেস্টোর থেকে চাইলে যেকোনো অ্যান্টিভাইরাসের ফ্রি সংস্করণের পাশাপাশি প্রিমিয়াম ভার্সনও সংগ্রহ করা যাবে। এরপর অ্যাপ দিয়ে ডিভাইস স্ক্যান করে দেখতে হবে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে কী না।
এই ছয়টি সহজ কাজের মাধ্যমে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের পারফরম্যান্স অনেকাংশে উন্নত করা সম্ভব। ছোট কিছু সমন্বয়, কিন্তু বড় সুবিধা।
কেকে/এসএএস