ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যবহারকারী এই প্ল্যাটফর্মে বার্তা আদান-প্রদান করেন। অনেক সময় অন্যের পাঠানো বার্তাও পরিচিতজন বা বিভিন্ন গ্রুপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে একই বার্তা বারবার শেয়ার হলে ভুল তথ্য বা গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণেই ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে নির্দিষ্ট কিছু বার্তার সঙ্গে ‘ফরোয়ার্ডেড’ বা ‘ফরোয়ার্ডেড মেনি টাইমস’ চিহ্ন যুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপ।
হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, কোনো বার্তার ওপরে ‘ফরোয়ার্ডেড’ লেখা থাকলে বুঝতে হবে সেটি মূল প্রেরকের কাছ থেকে সরাসরি আসেনি। বরং অন্য কোনো ব্যবহারকারী বার্তাটি পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারেন যে বার্তাটির উৎস যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো বার্তা একাধিকবার ফরোয়ার্ড হলে তার সঙ্গে ‘ফরোয়ার্ডেড মেনি টাইমস’ চিহ্ন দেখা যায়। এ ধরনের বার্তার পাশে সাধারণত দুটি তির চিহ্নও যুক্ত থাকে।
হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, কোনো বার্তা প্রথমবার পাঠানোর পর অন্তত পাঁচবার ফরোয়ার্ড করা হলে সেটিকে ‘অনেকবার ফরোয়ার্ড করা হয়েছে’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচ ব্যক্তি বা গ্রুপে ফরোয়ার্ড করা যায়। তবে ইতোমধ্যে বহুবার শেয়ার হওয়া বার্তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে ভুয়া খবর, অবাঞ্ছিত বার্তা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার কমানো যায়।
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ফরোয়ার্ড করা বার্তা দেখতে পারে?
অনেক ব্যবহারকারীর মনে প্রশ্ন থাকে, ফরোয়ার্ড করা বার্তা যদি মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে পাঠানো হয়, তাহলে কি ব্যক্তিগত চ্যাটের তথ্যও দেখা সম্ভব?
এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ব্যবহারকারী যে বার্তাটি সরাসরি মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে পাঠাবেন, কেবল সেটিই বিশ্লেষণ করতে পারে। ব্যক্তিগত চ্যাটে আদান-প্রদান করা অন্য কোনো বার্তা মেটা বা হোয়াটসঅ্যাপ দেখতে পারে না।
এর কারণ, হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত বার্তাগুলো ‘প্রান্ত থেকে প্রান্তে সংকেতায়ন’ (এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। ফলে বার্তা প্রেরক ও গ্রাহক ছাড়া অন্য কেউ সেই বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে বা পড়তে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বার্তার সঙ্গে ‘ফরোয়ার্ডেড’ বা ‘ফরোয়ার্ডেড মেনি টাইমস’ চিহ্ন থাকলে সেটি অন্যের কাছে পাঠানোর আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা উচিত। এতে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।
কেকে/ এমএস