বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার উপযোগী করে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডেটা গভর্নেন্স, নীতি সংস্কার এবং উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নেতারা।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি ২০৩০: চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও কৌশলগত সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে তারা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী রাফেল কবির।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রওশন কামাল জেমস এবং মুখ্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিয়াদ হাসনাইন।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিশ্বজুড়ে আইসিটি খাত একটি অবিচ্ছেদ্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে মানুষের জীবনমান ও চিন্তাচেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। স্টিম ইঞ্জিন থেকে আজকের এআইয়ের যুগে এসে পৌঁছেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই দৃশ্যমান, যা ভবিষ্যতে মানুষের মূল্যবোধ ও জীবনধারায়ও পরিবর্তন আনবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।”
তিনি আরও বলেন, “আইসিটি খাত সঠিকভাবে ও দক্ষ হাতে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তথ্য ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার একটি দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারে। তাই সরকারকে বিভিন্ন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয়তাবাদী শক্তি এ খাতে যত বেশি সম্পৃক্ত হবে, দেশের স্বার্থ তত বেশি সংরক্ষিত হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আরও প্রজ্ঞাবান ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী রাফেল কবির বলেন, “জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম আগামী পাঁচ বছরে দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, খাতভিত্তিক সংস্কার এবং জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। প্রধান অতিথির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়গুলো অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়েও বিশেষ করে আইসিটি খাতে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এই চক্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করছে।”
প্রকৌশলী রাফেল কবির বলেন, “আইসিটি মন্ত্রণালয়ে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা না হলে এবং খাত-সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব না পেলে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
সেমিনারে প্রফেসর ড. শাহ জে মিয়া, প্রফেসর ড. আতিফুর রহমান, ড. মজরুক মলিক, জুবায়ের রিয়েল, তৌহিদ হাসান চৌধুরী, শামীম, আজাদ, মো. হাবিবুর রশিদ, মো. সামিউল ইসলাম এবং রুকম রাজ্জাক তাদের উপস্থাপনায় দেশের আইসিটি খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোগত বৈষম্য বর্তমানে দেশের আইসিটি খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে এলডিসি-উত্তর সময়ে আইসিটি রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং সরকারি ক্রয় নীতিমালা (পিপিআর) যুগোপযোগী করতে হবে।”
তারা আরও বলেন, “বর্তমান ক্রয় নীতিমালার আওতায় আইসিটি খাতকে অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব ও অকার্যকর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি নীতি সংস্কার, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ প্রদান এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ডিজিটাল যুগে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান উপায়।”
আয়োজকরা জানান, সেমিনারে উপস্থাপিত সুপারিশসমূহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রেরণ করা হবে, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের আইসিটি খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
কেকে/এলএ