চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় চন্দ্রনাথধামে শিবচতুর্দশী তিথি ও মেলাকে কেন্দ্র করে প্রথম দিনে লাখো পুন্যার্থীর ঢল নেমেছে। প্রায় ১ হাজার ২৫০ ফুট উঁচু পাহাড় চূড়ায় উঠতে হয় পুন্যার্থীদের। চন্দ্রনাথ মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির, বীরূপাক্ষ মন্দিরে শিবের মন্দির দর্শন করবেন পুণ্যার্থীরা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশন প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান নিরবিচ্ছিন্নভাবে তীর্থযাত্রীরা ট্রেন, বাসযোগে আসে। যাতায়াতের সুবিধার্তে সীতাকুণ্ড ট্রেন স্টেশনে সবগুলো ট্রেন থামানো হয়।
সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী জানান, নতুন নির্বাচিত এমপি আসলাম চৌধুরী সার্বক্ষণিক মেলার খোঁজখবর নিচ্ছেন। মেলা কমিটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুবিধা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। নিরাপত্তা জোরদারে গোপন ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
তিনি জানান, রোববার শিব চতুর্দশী তিথি বিকাল ৫টা ৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে শুরু হয়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। মন্দিরে যাওয়ার আগে ব্যাসকুণ্ডে স্নান করেন ভক্তরা। তারপর তারা পাহাড় চূড়ায় পূজা ও শিব স্নানে যোগ দিবেন।
প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থযাত্রীদের তিন দিনের এ মেলা বসে। এবারের মেলায় প্রায় ১৫ লাখ তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।
পৌরসভা বিএনপি নেতা ইউসুফ নিজামী জানান, সীতাকুণ্ডে এই মেলাকে কেন্দ্র করে যে সৌহার্দের পরিবেশ তৈরি হয় তা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আমাদের দানি, এটি জাতীয় তীর্থ ঘোষণা করা হোক।
মেলা উপলক্ষে প্রশাসন ও মেলা কমিটির সমন্বয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা সীতাকুণ্ডে আসছেন। মেলায় প্রতি বছর ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। কয়েক শত বছরের প্রাচীন এই মেলাকে কেন্দ্ৰ করে প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্তের আগমন ঘটে। সবচেয়ে বৃহৎ এ তীর্থভূমি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মহামানবের মিলন তীর্থে পরিণত হয়। ফলে, এই মেলার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনও যথেষ্ট তৎপর থাকে।
এদিকে, মেলায় স্টল তৈরির কাজ মোটামুটি শেষ। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চন্দ্রনাথ মন্দির পর্যন্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তাসহ মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে মেলা কমিটি।
আয়োজকরা জানান, সারাবিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি পুণ্যতীর্থ পীঠ। আনুমানিক ৩০০ বছর আগের ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধামকে ঘিরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা। তখন থেকে এ মেলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট ওপরের পথ
হেঁটে কলিযুগের মহাতীর্থ খ্যাত এ চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করেন। এছাড়া মেলার চতুর্দশী তিথিতে সনাতনী পুণ্যার্থীরা ব্যাস কুণ্ডে স্নান-তর্পণ, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদান করেন। সীতাকুণ্ডে থাকা অন্তত ৫০টি মঠ-মন্দির পরিক্রমা করবেন তারা।
ধর্মীয় এ মেলাকে ঘিরে বসে তৈজসপত্র, পাঠ্যপুস্তক, খাবারের দোকান, খেলনা, আসবাবপত্রসহ নানা পণ্যের দোকান। মেলায় আসা পুণ্যার্থীরা ধর্মীয় আচার শেষ করে কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘শিবচতুর্দশী মেলা উপলক্ষে এবার মোট ৬০০
পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মেলায় জনসমাগম গত বারের তুলনায় বেশি হবে ধরে নিয়েই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা কেন্দ্রিক সব প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। সকলে মিলে একটি সুন্দর-সুষ্ঠু মেলা সম্পন্ন করতে মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কেকে/এমএ