মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
রাজনীতি
নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছে বৈচিত্র্য
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫১ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এখন দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কাদের নাম থাকছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এখন ব্যস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতিতে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য থাকবে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই নির্বাচনে মিত্র দলের ছয়জন নেতা নিজ দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে একমাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম জয়ী হয়েছেন। তার নামও আলোচনায় আছে।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অভিজ্ঞ ও দক্ষ তারুণ্যের মিশ্রণে এবারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাই নজরুল ইসলাম খান নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকছেন, এ আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে আছে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও আলোচনায় আছে। জাহিদ হোসেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠনের নেতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন ছিলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতের বড় উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত। তারা মন্ত্রিসভার নতুন মুখ হতে পারেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। 
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদের দুজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তারা নির্বাচন করেননি। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কথা ভাবা হচ্ছে, যিনি দলের বিভিন্ন নীতি-গবেষণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বিগত সময়ে দায়িত্বে ছিলেন, এমন কারও কারও নামও আলোচনায় আছে।

নারীদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে একাধিক জনকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সংখ্যালঘু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও মন্ত্রিসভায় একাধিক জনকে রাখা হবে। এই ক্ষেত্রে একজন প্রবীণ নেতা এবং পার্বত্য এলাকার একজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ তরুণ মুখ ঠাঁই পেতে পারেন। তাদের মধ্যে পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন, অপেক্ষাকৃত বিতর্ক কম ছিল— এমন ব্যক্তিরাও কেউ কেউ নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। 

বিগত যুগপৎ আন্দোলনের সময় মিত্র দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। মিত্র বা শরিক দলগুলো থেকে নিজ নিজ দলের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন তিনজন নেতা। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই নির্বাচনে মিত্র দলের সাতজন নেতা নিজ দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হয়েছেন। তাদের নামও আলোচনায় আছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভা খুব বড়সড় না করার চিন্তা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কলেবর একটু বড় হতে পারে। একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা অন্য কোনো নামে অনেককে যুক্ত করা হতে পারে। যার মধ্যে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকে কাজ করা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেও আছেন, এমন একজনের নামও আলোচনায় আছে। 

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতাবিষয়ক বড় কোনো দায়িত্বে যাচ্ছেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এ ধরনের কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনায় আছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে। 

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন যারা: তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি আসছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি। 
 
আফগানিস্তান-মিয়ানমার বাদে সার্ক ও বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্র আছে। জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে এরইমধ্যে ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ ১৩টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত,  কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে। 

আগামী কাল মঙ্গলবার সকালে নতুন সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে। শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

কেকে/এমএফ



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close