ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের লাগামহীন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যারেটিভ জনমনে তীব্র সমালোচনা জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েমের নানা মন্তব্যকে ঘিরে ক্যাম্পাসসহ জাতীয় রাজনীতিতে বাড়ছে বিতর্ক।
সমালোচকদের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল এবং পরোক্ষভাবে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা পুঁজি করে করছে এক ধরনের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা। যদিও একাংশের দাবি, তিনি রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তবে অন্য অংশের অভিযোগ তার ভাষা উত্তেজনাপূর্ণ এবং তা সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে।
এ ছাড়া অনেকেই মনে করেন ডাকসু ভিপি পদ এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রতিনিধি পদ। জাতীয় রাজনীতির ভাষা ও দায়িত্বের সঙ্গে ছাত্ররাজনীতির ভাষা এক করে ফেললে তা বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে। ফলে তার এসব বক্তব্য অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে তার এমন কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সাদিক কায়েমকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন ‘নিজেকে আর লাফিং স্টকে পরিণত কইরো না।
গণপ্রতিরোধ বিষয়টাকে একটা তামাশায় রূপান্তরিত করতেছো তুমি। তোমার ভাবটা হইছে এমন যে, তুমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে জিতে নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি ভাবতে শুরু করেছো। আর আশপাশে রেখেছো কিছু উগ্র ছেলেপেলেকে। যাদের কার্যকলাপের বিষয়ে তোমাকে প্রশ্ন করলে তুমি বেশ কনভেনিয়েন্টলি ‘ওদের ওপর আমার কোনো কন্ট্রোল নাই’ বলে এড়িয়ে যাও। পাশে নিয়া দিন-রাত ঘুরতে পারো আর ওদের অসভ্যতার ব্যাপারে তোমার কোন কন্ট্রোল নাই? ফাইজলামি করো কার সাথে?’
তিনি আরও বলেন ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০,০০০-১২০,০০০ শিক্ষার্থীর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জেতা আর দেশের ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের সিদ্ধান্তে জেতার পার্থক্য তোমার বুঝতে পারা উচিত। নির্বাচনে যে কোনো একটা পক্ষ জিতবে, আর একটা পক্ষ হারবে, এটাই নিয়ম। তোমার সমর্থিত দলের পরাজয় মানে বাংলাদেশের পরাজয় নয়। বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময় হতে অদ্যাবধি দেশের পরিস্থিতি কতটা সংকটজনক হয়েছে সেটা স্পষ্ট করে নিশ্চই বলার দরকার নেই। এখন দেশটা গঠন করতে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চেষ্টা কর। আর পান থেকে চুন খসলেই গণপ্রতিরোধ-ফ্যাসিজমের পুনরাবৃত্তি এসব রেটরিকের ব্যবহার থামাও।’
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রী ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। সেইসঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি কড়া বার্তাও দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান ডাকসু ভিপি।
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের দেখে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও লেখেন, আমরা আশা রাখতে চাই, প্রত্যেক নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং তাদের নির্বাচনি ক্ষেত্রসহ সকল স্থানে সকল ধরনের সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করে ভিন্নমতের সকলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ উপহার দিবেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাদিক কায়েম। তিনি লেখেন, হামলা বন্ধে প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এভাবে যদি একের পর এক হামলা চলতে থাকে, নাগরিকদের রক্তাক্ত করতে থাকে, আমরা ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলব। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দিব না ইনশাআল্লাহ।
কেকে/ এমএস