দীর্ঘদিন ‘গুম’ থাকার বিভীষিকা কাটিয়ে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে এবার নতুন মুখ হিসেবে মাদারীপুর-৩ আসনের এই নেতাকে বেছে নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণমন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন।
মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তার নির্বাচনে বিজয়ের পর জেলায় নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন মাদারীপুরবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন একজন প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ প্রতিনিধি পেয়েছি, যিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জেলার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ দাবির পক্ষে মত প্রকাশ করছেন অনেকে।
আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খোকন। এর আগে, ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একই আসনে নির্বাচন করেছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন তালুকদার বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এ নেতা একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক মামলার আসামি হয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি। দীর্ঘ সময় তিনি গুমের শিকার ছিলেন এবং নানা নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়েও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এলাকায় দলকে সংগঠিত করতে ও তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করেন তিনি।
প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন এবং মাদারীপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। এছাড়া বিএনপি ঘোষিত মাদারীপুরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বড় বড় শোডাউন দিয়ে তৎকালীন সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায়ও নাম উঠে আসে তার।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলের হাইকমান্ডের আস্থাভাজন নেতাদের মধ্যে খোকন অন্যতম। সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদের প্রাথমিক আলোচনায় তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণমন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন-এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
জেলার সচেতন মহল মনে করছেন, পদ্মা নদী কেন্দ্রিক অর্থনীতি, নদীভাঙন রোধ, নৌ-যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও শিল্পায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিলে মাদারীপুর ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আর সে জন্য প্রয়োজন কার্যকর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে শক্ত অবস্থান।
এখন দেখার বিষয়, মাদারীপুরবাসীর এ প্রাণের দাবি কতটা গুরুত্ব পায় এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জেলার উন্নয়নে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন।
কেকে/ এমএস